শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর মগবাজারের আদ—দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) আবু হোসাইন মো. মঈনুল আহসান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ—দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট—অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। মৃত নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন।
সদ্যজাত এসব শিশুর নামও রাখায় হয়নি। ফলে, মৃত শিশুদের তাদের মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল।
এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।
ঘটনা তদন্তে দ্রুত ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।
ঘটনা তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছিল। পরে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।
এদিকে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি ৬ নবজাতকের মৃত্যুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পায়।
৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আইনে যতটুকু কঠোর হওয়া সম্ভব, আমরা ততটুকুই যাব। এবার আর কাউকে মাফ করে দেওয়া যায় না।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটি ৪ জুন দুপুর ৩টায় তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্বরত নার্স—স্টাফদের চরম অবহেলার প্রমাণ মিলেছে।
তদন্ত কমিটি হাসপাতালটিতে আরও নানা ধরনের অসংগতি পায়।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরদিন ৫ জুন আদ—দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
নোটিশে দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস অর্ডিন্যান্সের বিধান লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) সই করা নোটিশে বলা হয়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালটির মালিক ডা. শেখ মহিউদ্দিনকে নোটিশের জবাব দিতে হবে।
এরই মধ্যে ৭ জুন মৃত নবজাতকদের পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী শিশির মনির জানান, আদ—দ্বীন হাসপাতালে মারা যাওয়া ৬ শিশুর পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দিতে সম্মত হয়েছে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ।
তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারবারই সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছিলেন।
এরই মধ্যে আইন পর্যালোচনা শেষে আজ হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হলো।