বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মঠবাড়িয়ায় ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে অভিযান ভূয়া ডাক্তার ও ম্যানেজারকে কারাদণ্ড দোরগোড়ায় বিচারসেবা পৌঁছাতে মঠবাড়িয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা শেষ রক্ষা হচ্ছে না পরীমনিকাণ্ডের সেই এডিসির! পুলিশের গুলিতে ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ, আটক ৪ এআই মামলার মেসেজ দিয়েই ৩ জন হাতিয়েছেন ৭ লাখ! বরিসশালে দুই চাদাবাজকে গণপিটুনির পর সাংগঠনিক পদ স্থগিত ছাড়পত্র দেওয়া হল শিবির নেতা জিসানকে, আদালতে নেওয়ার প্রস্তুতি ‘তারেক রহমান আইলেও কাম হইবো না’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার কাউখালীতে অবাধে ‘চাই’ দিয়ে মাছ শিকার: হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্য সম্পদকাউখালীতে অবাধে ‘চাই’ দিয়ে মাছ শিকার: হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্য সম্পদ মেহেন্দিগঞ্জ থানা জেলার শ্রেষ্ঠ থানা মনোনীত, ওসি মমিন উদ্দিনকে সম্মাননা প্রদান
একাধিক মামলার আসামি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ‘বীরদর্পে’ কাজির হাট থানায়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

একাধিক মামলার আসামি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ‘বীরদর্পে’ কাজির হাট থানায়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বরিশাল: বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার আসামি রোমান খাঁ হঠাৎ বীরদর্পে থানায় প্রবেশ করায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৩ মে (বুধবার) হঠাৎ করেই এই মাদক সম্রাটের থানায় প্রকাশ্য যাতায়াত এবং থানা থেকে বেরিয়ে তার দেওয়া কিছু বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও তীব্র ক্ষোভের দানা বেঁধেছে। সরকারের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা সত্ত্বেও, একজন চিহ্নিত অপরাধী কীভাবে পুলিশের নাকের ডগায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়—তা নিয়ে এখন এলাকায় তোলপাড় চলছে।

 

​অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজিরহাট থানার সোনাপুর গ্রামের রতন খাঁর ছেলে রোমান খাঁ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদার হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজিরহাট থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মরণঘাতী মাদক সরবরাহ করে আসছে সে। বর্তমানেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তার এই অবৈধ ব্যবসা পুরোদমে চলমান রয়েছে। ইতিপূর্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কাজিরহাট থানা পুলিশ তাকে একাধিকবার বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার করলেও, প্রতিবারই জামিনে এসে সে পুনরায় একই পুরোনো ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। ​

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন তালিকাভুক্ত ও একাধিক মাদক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও রোমান খাঁ কীভাবে প্রকাশ্যে থানায় প্রবেশ করে এবং নির্বিঘ্নে বেরিয়ে আসে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম বিস্ময় তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন থানা থেকে অত্যন্ত প্রফুল্ল চিত্তে বের হওয়ার পর রোমান খাঁ বিভিন্ন লোকের কাছে দাবি করেছে, আমি থানায় গিয়েছিলাম, আমার এখন আর কোনো পুলিশের সমস্যা নেই। সব ক্লিয়ার।

​তার এমন দাম্ভিক বক্তব্যে এলাকায় নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশের ধারণা, কাজিরহাট থানার কোনো কোনো কর্মকর্তার সাথে বিশেষ সখ্যতা গড়ে তুলে বা কোনো অদৃশ্য উপায়ে ‘ম্যানেজ’ করেই সে তার এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—আইন-প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করা এই রোমান খাঁর মূল ‘খুঁটির জোর’ আসলে কোথায়? ​এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত মাদকবিরোধী তথাকথিত অভিযান চালিয়ে মাঝে মাঝে ক্ষুদ্র বিক্রেতা বা সেবনকারীদের গ্রেফতার করলেও, রোমানের মতো মূল গডফাদাররা বারবারই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

ফলে কিছুতেই থামছে না কাজিরহাটের মাদকের মহোৎসব। যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হওয়ায় অভিভাবক মহল চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। ​এ বিষয়ে কাজিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিদ্দিকুর রহমানের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী কীভাবে থানায় এসে পুলিশের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার সুযোগ পায়, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।

​একই সাথে, কাজিরহাট এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে এই শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা রোমান খাঁ ও তার নেপথ্যের আশ্রয়দাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য বরিশালের জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost