সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর অন্যতম সহযোগী, জুলাই হত্যা মামলার আসামি এবং যুবলীগ নেতা সাইদুর রহমান সাঈদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে তাকে ছাড়াতে থানায় তদবির চলছে বলে জানা গেছে।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীর রূপনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সাঈদ রূপনগরের ইউনুস আলী হাওলাদারের ছেলে। এছাড়াও সাঈদ ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ৫ নম্বর সুবিদপুর ইউনিয়নের সদস্য (মেম্বার) ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
দুপুরে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি রাজু আহমেদ বলেন, সাঈদ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিনি আমুর সহযোগী কি না, জানা নেই। তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি বলে জানি। আর তাকে ছাড়াতে কেউ তদবির করছে না।
এদিকে সাঈদকে গ্রেফতারে অংশ নেওয়া যাত্রাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তাকে সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি যে আমুর সহযোগী, সেটাও জানি না। শুধু জানি, তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের একজন আসামি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যার শিকার এক ব্যক্তির স্বজন মীম আক্তার আঁখি নামে এক নারী মামলাটি করেন। সেই মামলায় ১০৯ নম্বর আসামি সাইদুর রহমান সাঈদ।
এদিকে সাঈদকে গ্রেফতারের পর সকাল থেকে যাত্রাবাড়ী থানায় ভিড় করছে কার্যক্রম—নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন। তারা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে থানা—পুলিশকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে তদবির করছে বলেও জানা গেছে।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় জুলাই গণহত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আরও অনেককে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাঈদ ঢাকার রূপনগরের বাসিন্দা হলেও তিনি সারাক্ষণ আমির হোসেন আমুর সঙ্গে থাকতেন। আমুর এলাকার বিভিন্ন উঠান বৈঠক, সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করতেন এই সাঈদ। এছাড়াও তিনি আমুর পক্ষে পোস্টার ছাপিয়ে এলাকায় ভোট চাইতেন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল এলাকাবাসী। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে সাঈদ গা ঢাকা দিয়ে ঢাকায় এসে লুকিয়ে ছিলেন। আজ সকালে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এর আগে ১৩ মে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত সহকারী শাওন খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শাওন খান ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ফিরোজ আলম খানের ছেলে।
জানা গেছে, শাওন আমুর ব্যক্তিগত সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করে কোটিপতি বনে যান। ৫ আগস্ট ছাত্র—জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি পলাতক ছিলেন।