বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
নগরীর মোফাজ্জলন হোসেন খান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষ না থাকায় গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে দেয়া হচ্ছে পাঠদান, পরীক্ষা নেয়া হয় মাঠে ও পাশের খোলা ভবনে।
সরেজমিন গিয়ে শিক্ষক—শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর আমানত গঞ্জ মোফাজ্জল হোসেন খান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩ শত। জরাজীর্ণ একটি তিন রুমের পুরাতন একতলা ভবনে একটি অফিস কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা মাত্র দুটি। দুই শিফটে পরিচালিত হলেও বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষ ও বেঞ্চ না থাকায় গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।নতুন করে ভবন করে দেওয়ার কথা থাকলে তার অনুমোদন না হওয়াতে এক ক্লাসে দুই শ্রেণীর পাঠদান চলছে যাতে করে শিশু দ্বিমুখী পড়াশুনার কারনে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তুলনামূলকভাবে বিদ্যালয়টির লেখাপড়ার মান ভাল হওয়ায় ছাত্র—ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু শিক্ষার্থী অনুপাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও বেঞ্চ না থাকায় বিপাকে শিক্ষক—শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।অনেক অভিভাবক শ্রেণীর কক্ষ সংকটের কারনে নতুন শিক্ষার্থিদের অন্যত্র ভর্তি করাচ্ছেন।
শ্রেনী সংকটের কারনে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সম্মলিত অর্থায়নে বিদ্যালয়ের পাঁশে দুইটি টিনসেড ভবন করলেও আর্থিক সঙ্কটের কারনে ভবনের কাজ সম্পন্ন করতে পারছেনা। সংকট সমাধানে বিদ্যালয়টির একমাত্র উর্দ্ধমুখী ভবনে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করাসহ পরিত্যক্ত ভবনের স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের দাবী শিক্ষক— শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।
৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার প্রিয়া ও তানভীর আহমেদ বলে, ক্লাসরুম কম থাকায় ও পর্যাপ্ত বেঞ্চ টেবিলের অভাবে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হয়। পরীক্ষার সময় স্কুলের মাঠে বসে পরীক্ষা দিতে হয়।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক অর্চনা রানী বলেন, ৩ শত শিক্ষার্থী নিয়ে যদি এক শিফটে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে হয় তাহলে কমপক্ষে ১২টি শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন। একতলা একটি ভবনে একটি অফিস কক্ষ ও মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। বাধ্য হয়ে ভবনের ২টি শ্রেণিকক্ষ সংস্কার করে পাঠদান করা হচ্ছে। এতেও শিক্ষার্থীদের বসতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন অফিসের মেঝেতে, বিদ্যালয় মাঠে, পরীক্ষা গ্রহণ করতে হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আসরাফুজ্জামান রনি বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী অনুপাতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আমারা অভিভাবক ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে টাকা খরচ করে নতুন দুটি কক্ষ করেছি। আমাদের পুরাতন ভবন সরকার নিলামে দিয়েছে নতুন করে ভবন করে দিবে তবে তাদের পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় কাজ শুরু করতে পারছে না।আমরা যে নতুন দুটি কক্ষ করেছি তার দরজা জানালা হয়ে গেছে আবহাওয়া ভালো হলে আশা করি এই মাসের ভিতর নতুন কক্ষ দুইটি চালু করতে পারব।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নাছির উদ্দিন খলিফা বলেন, বিদ্যালয়টি শ্রেনী সঙ্কটের বিষয়টি আমার জানা আছে আমাদের বরাদ্দ আসলে আমরা কাজ শুরু করব,বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য লিস্টে মোফাজ্জল হোসেন খান সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের নামে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।