সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
বরিশাল নগরীতে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে জোরপূর্বক চেক এবং সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনা ভাইরাল হলে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
৫ জুলাই রোববার বেলা ২টার দিকে নগরের সদর রোডের বিবিরপুকুরপাড় টপ টেন নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বেলা ৩টার দিকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত লিটু যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু দলীয় কোন পদ পদবীতে নেই। তাঁর বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের এমডি আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর হামলা চালান। তাঁর দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে অণ্ডকোষ চেপে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়।
শনিবার রাতে ভুক্তভোগী ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করলে সেটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজনকে এমডির কক্ষে প্রবেশ করতে এবং পরে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখা যায়। একপর্যায়ে আরেক ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করলে তাঁকেও বের করে দেওয়া হয়। চেক ও স্ট্যাম্প গ্রহণের দৃশ্যও ভিডিওতে ধারণ হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক ব্যক্তি তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আজিজকে ‘বাচ্চু বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে আরও একজন কক্ষে প্রবেশ করলে তাঁকে কিছুক্ষণ আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সেটা হস্তান্তরের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়।
আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় তাঁদের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। পরে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে সব আর্থিক হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকারও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু তাঁর কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। সেই দাবির ধারাবাহিকতায় অফিসে ঢুকে তাঁকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হলে চেকটি থেকে অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, তিনি ও অন্যরা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। তাঁর দাবি, আব্দুল আজিজ তাঁদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে কাউকে এভাবে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না তার ফেইচবুক আইডিতে লিখেনঃ বরিশাল শহরের সদর রোডস্থ অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের এমডির সাথে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনায় উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বরিশাল মহানগর যুবদলকে জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার করছে। আমি যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি ঘটনার সাথে জড়িত জনৈক মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বরিশাল মহানগর যুবদলের কোন পর্যায়ের পদ পদবীতে কখনোই ছিল না।আমি বরিশাল মহানগরীর পুলিশ প্রশাসনকে অভিযুক্ত এই ব্যক্তিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানাচ্ছি।এরপর বরিশাল প্রশাসন অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ থানায় পৌঁছানোর পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।