শুক্রবার, ১০ Jul ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদক ও চুরি মামলার রিয়াজ ফকির নামে আসামীকে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশংকর মল্লিক।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে আগৈলঝাড়া থানা হাজতে রিয়াজ ফকিরকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। রিয়াজ ফকির উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের ফকির বাড়ির সিদ্দিক ফকিরের ছেলে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন— আগৈলঝাড়া থানার উপ—পরিদর্শক ওমর ফারুক, সহকারী উপ—পরিদর্শক আব্দুল হালিম এবং কনস্টেবল ফরহাদ, প্রতিপক্ষের রিয়াজ ফকিরের দাদি মমতাজ বেগম, বড় বোন শারমিন এবং চাচা কাঞ্চন ফকির। এর মধ্যে লাঠিচার্জ করে বৃদ্ধা মমতাজ বেগমের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
থানা সূত্রে জানাযায়,নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ মাদক ও চুরির মামলার একাধিক আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।রিয়াজ ফকির নামে চুরির মামলায় থানার হাজতে নিজেই তার মাথা লোহার সাথে আঘাত করে মারাত্নক জখম করে।থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৌলঝড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।সেখান থেক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল প্রেরন করে।আজ সকালে আটক রিয়াজের মৃত্যু হয়েছে এমন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক থানায় প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করে। একপর্যায়ে তারা থানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন,অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। প্রকাশ্য দিবালোকে থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা চালানো চরম ধৃষ্টতা।
আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশংকর মল্লিক জানান, রিয়াজ ফকিরের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা আছে। তবে সে দুটি মামলায় জামিনে রয়েছে। তাকে পার্লার থেকে স্বর্ণ চুরির মামলায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ফুল্লশ্রী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, রিয়াজকে ঢুকানোর পর পরই রাত ৯টায় গারদের শিকের সঙ্গে মাথা ঠুকতে ঠুকতে জ্ঞান হারিফে ফেলে। তাকে কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি। পরে বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হলেও তারা থানায় আসেনি।
আইন—শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।