শুক্রবার, ১৭ Jul ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার বিভিন্ন এলাকায় মাদক, অনলাইন জুয়া এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে খুচরা পর্যায়ের অভিযানের পাশাপাশি মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও নেপথ্যের সংগঠকদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের মতে, শুধুমাত্র খুচরা মাদক বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূল হোতা, অর্থদাতা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রকে চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনতে পারলেই এ অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তারা গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনানুগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সচেতন মহলের অভিযোগ, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া, অবৈধ ড্রেজার পরিচালনা, চুরি এবং অন্যান্য অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তই চূড়ান্ত বলে তারা উল্লেখ করেন।
এছাড়া কিছু সাংবাদিক ও স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের সময় অনেক ক্ষেত্রে তারা ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখোমুখি হন। এ ধরনের অভিযোগও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। যেকোনো অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
তারা আরও বলেন, সমগ্র মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাট এলাকায় ধারাবাহিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলে অপরাধচক্রের প্রভাব কমবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পাবে।
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদকের নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো স্থানীয়দের দাবি, মতামত ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।