চেক প্রতারণা মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা সৈয়দ জামাল হোসেন নোমানের ভাই এবং সাবেক কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির লিংকুর ভাই সৈয়দ আব্দুর রহমান তুহিনকে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫জুলাই) বরিশাল মহানগর দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন জানান, আসামি সৈয়দ আব্দুর রহমান তুহিন ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ কাটপট্টি সড়কে ডেভেলপমেন্ট মাল্টিপারপাস সমিতির অনুকূলে একটি হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খোলেন। পরবর্তীতে বাদী ২০২০ সালে জমাকৃত টাকা ফেরত চাইলে আসামি তা পরিশোধ না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করেন। এ সময় তিনি তার দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করতেন বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামি পাওনা টাকার বিপরীতে একটি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ২৭ মার্চ আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়া হলে হিসাব নম্বরে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার (অবৈতনিক) ঘোষণা করে ফেরত দেয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল আসামিকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় একই বছরের ২ জুন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন চেক প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিচারকালে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি সৈয়দ আব্দুর রহমান তুহিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, দণ্ডপ্রাপ্ত সৈয়দ আব্দুর রহমান তুহিন বরিশাল নগরীর কাটপট্টি সড়কের মৃত সৈয়দ চুন্নু মিয়ার ছেলে।