শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরের নিম্নাঞ্চল ৫ থেকে ৬ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকা যাতায়াতের অন্যতম নৌপথ রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত যাত্রী।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ২টায় মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন—২—এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পাশের ৬০ কলোনি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও বুকসমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে। প্রায় ৬০টি পরিবারের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করছেন। অনেককে ঘরের টিনের ছাদে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, বেড়িবাঁধবিহীন ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচর এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এসব এলাকায় ৫ থেকে ৭ ফুট জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে বলে জানান কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আমিন তালুকদার। এদিকে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কোমরসমান পানি পেরিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করতে হয়েছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
৬০ কলোনির বাসিন্দা ইয়াছিন, কামাল ও সখিনা বেগমসহ কয়েকজন জানান, দিনে ও রাতে দুই দফা জোয়ারের পানিতে তাদের বসতঘর প্লাবিত হচ্ছে। পরিবার—পরিজনকে নিয়ে টিনের চালের ওপর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের জোয়ারে চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন পানি আসবে, কখন নামবে— এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে।
রামনেওয়াজ ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ, মোস্তফা ও মমিন তালুকদার জানান, লঞ্চঘাটসহ আশপাশের এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন ২ —এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রামনেওয়াজ এলাকার পুরোনো বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।