রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি ও চুরির চেষ্টা। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে। রাত নামলেই আতঙ্কে থাকছেন সাধারণ মানুষ। একের পর এক বাড়ি, বাড়ির বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার, আর্থিং তার, টিউবয়েল, টেলিফোন লাইনের পরিত্যাক্ত লোহার ছোট খাম্বা, বিভিন্ন বিল বোর্ডের লোহার এ্যাঙ্গেল, নির্মানাধীন ভবনের উপরের লোহার রড, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষকের গোয়াল থেকে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকে মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। কোথাও আবার বিদ্যুতের সার্ভিস লাইনের তার কেটে নেওয়া হচ্ছে, কোথাও টিউবওয়েল খুলে নিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও নির্মাণ সামগ্রী চুরি হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে।
গত মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পৌর সভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ‘উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দোলোয়ার হোসেন বিপ্লবের বাসায় বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে। দেলোয়ার বর্তমানে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বাড়ি ছিল তালা বদ্ধ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা লোহার সাপল দিয়ে বাসার পেছনের দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে স্টীলের আলমিরা থাকা তার স্ত্রীর প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৮০ হাজার টাকা এবং জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ কয়েক দফা তার বাড়িতে গিয়েছেন বলে তার স্ত্রী জানান।
এদিকে গত ১৪ এপ্রিল একই রাতে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক বাড়িতে চুরির চেষ্টা চালানো হয়। মিলন শরীফ, নুর আলম হাওলাদার, নুরুজ্জামান হাওলাদার ও ইলিয়াস হোসেন কারীর দুটি ঘরের বিদ্যুতের সার্ভিস লাইনের তার কেটে ফেলে চোরেরা। তবে বাড়ির লোকজন টের পেয়ে গেলে চোরেরা তার ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।
একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইউনুস লাহারীর বাড়ি থেকে টিউবওয়েল খুলে নিয়ে যায় চোরেরা। এছাড়া ইয়ারুন বেগমের বাসার সার্ভিস লাইনের তারও চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সোহাগ বেপারীর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদের রড কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান।
এছাড়াও গত ২ এপ্রিল উপজেলার উত্তর ভিটাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মোঃ লোকমান সিকদারের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৩টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় সকালে গোয়ালঘর খালি দেখে পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ১৭ ও ১৮ মার্চ পুলিশের পৃথক অভিযানে মোট ১৭টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। এ সময় এক নারীসহ ৫ জনকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরুগুলো বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ধারাবাহিক অভিযানের পরও চোরচক্র সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কাটছে না।
উপজেলার ৭নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্রী রনজীৎ সাধুর ‘শ্রী শ্রী গণেশ মন্দির থেকে ভক্তদের দানের টাকা,পাঁচটি পিতলের কলস এবং পিতলের পাঁজাল প্রদীপ নিয়ে যায় চোরেরা। একই ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিক্ষক আবু বকরের ঘর থেকে নগদ ৩৫হাজার টাকা এবং স্বর্ণাংলঙ্কারসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা নুরুজ্জামান হাওলাদার জানান, আগে কখনো সখনো বিচ্ছিন্নভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন প্রায় প্রতি রাতেই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় চুরি কিংবা চুরির চেষ্টা হচ্ছে। রাত নামলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। সারারাত চোরের ভয়ে অনেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।
ভূক্তভোগীসহ সচেতন মহলের দাবি এ উপজেলায় কুষ্টিয়া এবং গোপালগঞ্জের প্রায় ১৭/১৮টি ভাঙ্গরীর দোকান নজরে রাখলে এ চোরদের সহ এদের মূল হোতা ধরা সম্ভব বলেও তাদের দাবি।
এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, চুরি প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন চোরকে আটক করা হয়েছে। উপজেলার কোথাও চুরির ঘটনা ঘটলে দ্রুত থানায় জানাতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। খবর পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান।
Leave a Reply