
বরিশালের নবাগত রেঞ্জ ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার বলেছেন, পুলিশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলোর একটি হলো আচরণগত সমস্যা এবং সহযোগিতামূলক মনোভাবের অভাব। থানায় কোনো ভুক্তভোগী সাহায্যের জন্য এলে পুলিশ সদস্যদের উচিত সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। ডিআইজির যোগদান উপলক্ষে জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল সেডে এই মতবিনিময় সভা আয়োজন করে বরিশাল জেলা পুলিশ।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন এবং মাঠের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে নানা তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে পুলিশ ও সাংবাদিক একসাথে কাজ করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করা সম্ভব। পুলিশ এককভাবে যতই চেষ্টা করুক না কেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোনোদিনই আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে সাংবাদিক কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন করা সম্ভব।
রেঞ্জ ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী বলেন, প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি বর্তমানে ডিজিটাল অপরাধ, প্রতারণা ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন অপরাধের বিষয় সামনে এসেছে। এছাড়া বরিশালে মাদক সেবন, কিশোর গ্যাংসহ বর্ষাকালে ডাকাতির বেশকিছু ঘটনাও উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বিষয়সহ সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের পরামর্শ নিয়ে পুলিশের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পুলিশের আচরণগত সমস্যা নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে রেঞ্জ ডিআইজি বলেন, পুলিশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলোর একটি হলো আচরণগত সমস্যা এবং সহযোগিতামূলক মনোভাবের অভাব। থানায় কোনো ভুক্তভোগী সাহায্যের জন্য এলে পুলিশ সদস্যদের উচিত সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কনস্টেবল, ডিউটি অফিসারসহ দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সেই সহমর্মিতার ঘাটতি দেখা যায়।
তিনি বলেন, এ ঘাটতি দূর করতে আইজিপি থেকে শুরু করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের আচরণগত পরিবর্তনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও নিজেদের আচরণের মাধ্যমে অধস্তনদের সামনে উদাহরণ তৈরির চেষ্টা করছেন।
এছাড়া সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় শিষ্টাচার, বিনয় ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার ঘাটতিও পুলিশের আচরণে প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা সমাধানে হাই স্কুল ও কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে আচরণগত সমস্যা সমাধান, আচার—ব্যবহার উন্নত এবং মাদক সেবন থেকে বিরত থাকার জন্য কমিউনিটি পুলিশিং করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিআইজি আরও বলেন, সাংবাদিকদের জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে আপনারা পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুলিশের কার্যক্রমের যেসব গঠনমূলক সমালোচনা করে আসছেন, তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাই। আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে পুলিশ আরও সফলতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
সভায় অতিরিক্ত ডিআইজি ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার ও মো. হুমায়ুন কবির, বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম খসরু, দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদসহ সাংবাদিক নেতারা ও অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।