
ঢাকা—বরিশাল মহাসড়কসহ বরিশালের সীমান্ত প্রবেশমুখগুলোতে পর্যাপ্ত চেকপোস্ট ও পুলিশের তল্লাশি না থাকায় জেলায় বেড়েছে ছিনতাই, চুরি-ডাকাতিতে আতঙ্কিত জনজীবন।সাথে অবাধে প্রবেশ করছে মাদক। গ্রাম থেকে চরাঞ্চল—সবত্র ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের ভয়াল থাবা, যার প্রভাবে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় যুব সমাজ।আর মাদকাসক্তরা জড়িয়ে পড়ছে বড় ধরনের ছিনতাই,চুরি,ডাকাতিসহ নানা অপরাধে। একই সাথে পর্যাপ্ত পুলিশি পাহারা ও নজরদারির অভাবে জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি, ছিনতাই ও সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা। রাত বাড়লেই মানুষের মনে বাসা বাঁধছে আতঙ্ক, নিরাপত্তার চরম অভাব বোধ করছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইওয়েতে পর্যাপ্ত তল্লাশি না থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা খুব সহজেই বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। শুধু মাদক নয়, মহাসড়কে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অটোরিকশা ছিনতাই ও ‘অজ্ঞান পার্টি’। গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন অপু নামে এক চালক। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। চিকিৎসাধীন অপুর এখনো জ্ঞান ফেরেনি, ফলে ঠিক কোথায় তিনি এ ঘটনার শিকার হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গৌরনদী থানা এলাকায় একের পর এক সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টার দিকে গৌরনদীতে এক সৌদি প্রবাসীর টিনশেড বসতঘরের দরজা ভেঙে ৫—৬ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত প্রবেশ করে। তারা প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ৮ বছর বয়সী মেয়েকে রামদার মুখে জিম্মি করে গৃহস্থালি আসবাবপত্র তছনছ করে এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গৌরনদী পৌরসভার কাসেমাবাদ—গেরাকুল সীমান্ত এলাকায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে একই কায়দায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। আনোয়ার হোসেন বেপারী নামে ওই শিক্ষক ও তার ছেলেকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাত দল নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন সহ সমস্ত মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়।
অন্যদিকে, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে দেখা গেছে অপরাধীদের চরম নিষ্ঠুরতার চিত্র। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে একটি পরিবারের কর্তা যখন ঢাকার হাসপাতালে জীবন—মৃত্যুর মুখোমুখি, ঠিক তখনই ফাঁকা পেয়ে বাড়িতে হানা দেয় চোরের দল। গত সোমবার (১৮ আগস্ট) সকালে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নং কালিকাপুর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী পরিবারটি বাড়ি ফিরে দেখেন, পেছনের দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে থাকা চিকিৎসার জন্য রক্ষিত টাকা ও শেষ সম্বলটুকু চুরি করে নিয়ে গেছে দুষ্কৃতকারীরা।
একের পর এক চুরি, ডাকাতি ও অজ্ঞান পার্টির তাণ্ডবে পুরো জেলায় চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। রাতে পুলিশের নিয়মিত টহল না থাকা এবং থানা পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত মহাসড়কে তল্লাশি চৌকি ও স্থানীয় থানা পর্যায়ে পুলিশি টহল জোরদার এবং রাতে পর্যাপ্ত পুলিশি পাহারার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এ বিষয় ব্যাপারে বরিশাল পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন আমাদের পুলিশ প্রতিনিয়ত কাজ এবিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।আর কিছু থানার ভৌগোলিক অবস্থা এমন যে পুলিশ ইচ্ছা করলে যে কোন সময় যেতে পারে না।আমরা চাই পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে জুলাই আগস্ট এলে চুরি ছিনতাই বেড়ে যায়।আর আমাদের নবাগত রেঞ্জ ডিআইজি স্যারের নির্দেশে ঝুকি প্রবন এলাকায় তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে তল্লাশি চালাচ্ছি।আর সম্প্রতি আগৈলঝড়া ও গৌরনদীতে ডাকাতির যে অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে আমাদের পুলিশ সদস্য কাজ করতেছে সেখানে ডাকাতির মত কোন আলমত মেলেনি তবে ধারনা করা হচ্ছে চুরি হয়েছে তবে শত্রুতার জেরে হয়ে থাকতে পারে।