
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে বমি ও শারীরিক দুর্বলতার চিকিৎসা নিতে এসে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে ভুলবশত গর্ভপাতের ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওষুধ সেবনের পর তার পেট শক্ত হয়ে ফুলে ওঠাসহ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে অনাগত সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগে পড়ে পরিবার। ঘটনাটি নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট বমি ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করা হয়। গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রেহানা ফেরদৌসের পরামর্শে ভর্তি হওয়ার পর রাতে বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. শাহরিয়ার হক সুমন রোগীকে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন।
রোগীর স্বামী মামুন হোসেন জানান, হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পরই তার স্ত্রী পেট শক্ত হয়ে আসার কথা জানান। বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি বলেন, ভুলবশত গর্ভে মৃত সন্তান অপসারণে ব্যবহৃত ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে।
এ ঘটনা জানাজানি হলে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ও দায়িত্বরত নার্সদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর দায় এড়াতে চিকিৎসার কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ ওঠা রেজিস্ট্রার ডা. শাহরিয়ার হক সুমন হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রেহানা ফেরদৌস বলেন, “রোগীকে যে ওষুধটি দেওয়া হয়েছে, সেটি সাধারণত গর্ভের মৃত সন্তান অপসারণে ব্যবহার করা হয়। কেন ওই রোগীকে এটি দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। তবে একটি ট্যাবলেট খাওয়ালে সাধারণত জীবিত ভ্রূণের ক্ষতি হয় না এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।”
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ময়ল কৃষ্ণ বড়াল জানান, ঘটনার পর হাসপাতালেই রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছে। রিপোর্টে গর্ভের শিশুকে সুস্থ পাওয়া গেছে। তবে রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকেও আরেকটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে চান। দুটি রিপোর্ট মিলিয়ে চূড়ান্তভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।
তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও অভিযুক্ত চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও বরিশাল জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মুন্সী মুনিবুল হক বলেন, “বিষয়টি বৃহস্পতিবার বিকেলে জেনেছি। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি রোগীকে সাইটোমিক ২০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছিল। একটি ট্যাবলেট সেবনে সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তবুও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, শনিবার তিনি নিজে হাসপাতাল পরিদর্শন করে ঘটনাটি তদন্ত করবেন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভুল ওষুধ প্রয়োগের ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।