
নগরীর কাউনিয়া এলাকায় স্ত্রীর দেওয়া তালাককে কেন্দ্র করে এক তুলকালাম কাণ্ড ও তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তালাকের বিষয় জানাজানি হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে তরুণী মাহবুবা আক্তার রূপা স্বজন ও বহিরাগত লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর সাবেক স্বামীর বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ব্যর্থ হয়ে সাবেক স্বামীর বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়া প্রথম গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন দিলে কাউনিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কাউনিয়া প্রথম গলি এলাকার মো. হাসানের ছেলে ফাইমাদুর রহমান নিবিরের সঙ্গে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গাউয়াসার গ্রামের শাহিন তালুকদারের মেয়ে মাহবুবা আক্তার রূপার গত ১৩ জুন বিয়ে হয়। ছেলেপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে রূপা কৌশল ও চাপ সৃষ্টি করে নিবিরকে বিয়েতে বাধ্য করেন।
তবে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের মারাত্মক টানাপোড়েন চলতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৪ আগস্ট নিবিরের পক্ষ থেকে রূপাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাকনামা পাঠানো হয়। তালাকনামা হাতে পাওয়ার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার রূপা একদল লোক নিয়ে সাবেক স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ভেতরে ঢোকার জন্য তাণ্ডব চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
নিবিরের মা শিল্পী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে অন্যায়ভাবে বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছিল। আমরা পরবর্তীতে মূল ঘটনা জানতে পারি। তালাক দেওয়ার পরও ওই তরুণী একদল লোক নিয়ে এসে আমাদের বাড়িতে জোর করে ওঠার চেষ্টা করেন এবং গেটের তালা ভাঙার চেষ্টা চালান। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি।” তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান।
ঘটনাস্থলে যাওয়া কাউনিয়া থানার এএসআই আউয়াল জানান, ৯৯৯—এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত কাউনিয়ায় নিবিরের বাড়িতে যায়। সেখানে রূপা নিজেকে নিবিরের স্ত্রী দাবি করে বাড়িতে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। ছেলেপক্ষ বাধা দেওয়ায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাঁকে থানায় গিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুবা আক্তার রূপা জানান, নিবিরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের বিষয়ে নিবির টালবাহানা করায় তিনি থানায় আইনি সহায়তা নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতেই তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এখন তালাকনামা পাঠিয়ে তাঁকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ ও বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রেম, তড়িঘড়ি বিয়ে এবং মাত্র দুই মাসের মাথায় তালাকের পর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউনিয়া এলাকায় ব্যাপক চর্চা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই ঘটনার মূল সত্যতা উদ্ঘাটিত হওয়া সম্ভব।