শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

বরিশালের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতের এ সংঘর্ষে বরিশাল জেলা ও মহানগর অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক, বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র ও সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে বরিশাল শের—ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা রাতে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার অনু অনুসারী গ্রুপ এবং সদর আসনের সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার অনুসারী ছাত্র, যুব ও শ্রমিকদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বুধবার রাতে বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের শ্যালক ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদারের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক, মাহিন্দ্র ও সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি মাহিন্দ্র ও সিএনজি ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি পাঁচ শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মোল্লা, রূপাতলী শাখার সভাপতি স্বপন মোল্লা এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ। তাদের উদ্ধার করে রাতেই শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মাহিন্দ্র সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, সরকারি অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও তাদের পরিবহন রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তারা দাবি করেন, বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের অনুসারীরা পরিবহন সেক্টরে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি করছেন।

সংগঠনের মহানগর কমিটির সহ—সভাপতি পারভেজ খান মুন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের সংগঠনের পরিবহনগুলো শহর থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার রাতে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে এবং আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক, বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র ও সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা নগরীর সদর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধে সড়কের দুই প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছাড়লে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোহাগ হাওলাদার। তার দাবি, “তথাকথিত সংগঠনের নেতারাই আগে বাস শ্রমিক ও মালিকদের ওপর হামলা চালায়। আমরা আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ করেছি।” একইসঙ্গে তিনি ওই সংগঠনের পরিবহন পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে সদর রোড ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost