শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

ভোগান্তির আরেক নাম গৌরনদী ভূমি অফিস

ভোগান্তির আরেক নাম গৌরনদী ভূমি অফিস

হয়রানি আর ভোগান্তির আরেক নাম হয়ে উঠেছে বরিশালের গৌরনদী ভূমি অফিস—এমন অভিযোগ তুলেছেন সেবা প্রত্যাশীরা। আশপাশের উপজেলাগুলোতে তুলনামূলক সহজে ভূমি সেবা মিললেও গৌরনদীতে দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

জেলার একাধিক উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১/১ (খ) খতিয়ানভুক্ত জমির কাগজপত্র সঠিক থাকলে আবেদনকারীদের অনুকূলে নামজারি প্রদান করা হচ্ছে। তবে গৌরনদী ভূমি অফিসে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র সঠিক থাকলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনার কারণে মাসের পর মাস ঘুরেও নামজারি পাচ্ছেন না সেবা প্রত্যাশীরা।

এ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও অধিক হয়রানির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকে।

হয়রানির ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাহিলাড়া ইউনিয়নের এক সেবা প্রত্যাশী জানান, তার পিতার ক্রয়কৃত বেশ কিছু জমি ১/১ (খ) খতিয়ানভুক্ত হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করে তারা জয়ী হন। এরপর ২০২২ সালে নামজারির জন্য গৌরনদী ভূমি অফিসে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো সমাধান পাননি।

তিনি বলেন, “সাবেক এক এসিল্যান্ড নামজারি করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার বদলির পর আর কাজ হয়নি। বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান পাঁচবার তারিখ দিয়েছেন। প্রতিবার হাজিরা দেওয়ার পর নতুন তারিখ দেওয়া হচ্ছে। দিনের পর দিন ভূমি অফিসের বারান্দায় ঘুরছি, কিন্তু কোনো সমাধান মিলছে না।”

বার্থী এলাকার দুই বাসিন্দা অভিযোগ করেন, গত এক বছর ধরে তারা ভোগদখলে থাকা ১/১ (খ) তালিকাভুক্ত সম্পত্তির নামজারির জন্য ভূমি অফিসে ঘুরছেন। সকল বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও মাসের পর মাস ঘোরানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

খাঞ্জাপুর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, তার ক্রয়কৃত ১৭ শতক জমি অজ্ঞাত কারণে ১/১ (খ) তালিকাভুক্ত হয়ে যায়। পরে নামজারির জন্য আবেদন করলে বর্তমান এসিল্যান্ড চারবার শুনানির তারিখ দেন। দুইবার শুনানিতে অংশ নিয়ে বৈধ কাগজপত্র জমা দিলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, “মামলা খারিজও করছে না, আবার সমাধানও দিচ্ছে না। শুধু তারিখের পর তারিখ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”

একাধিক ভূমি সেবা প্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিব হোসেনের সময় প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ‘সেবাকুঞ্জ’-এর মাধ্যমে একদিনে আবেদন ও একদিনে নামজারি সেবা কার্যক্রম চালু ছিল। সে সময় উদ্যোগটি দেশব্যাপী আলোচনায় আসে। তবে তিনি বদলি হওয়ার পর ওই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে শুধু স্বাভাবিক নামজারি কার্যক্রম চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, একদিনের নামজারি সেবা পুনরায় চালু করা হলে ভূমি সেবায় গতি ফিরবে এবং হয়রানি কমবে।

এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির আব্দুল হালিম বলেন, “নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।” পরে তিনি এ বিষয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

গৌরনদী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “খ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে দুইটি নিয়ম রয়েছে। মালিকানার ধারাবাহিকতা থাকলে নামজারি পাবে। ধারাবাহিকতা না থাকলে সেটা করা সম্ভব নয়। সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা এসিল্যান্ডের অন্যতম দায়িত্ব। কেউ সরকারি সম্পত্তিকে নিজের দাবি করলে সেটি তো আর দেওয়া যাবে না।”

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, “সরকারি স্বার্থ না থাকলে সেগুলো নামজারি হওয়ার কথা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost