রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
পটুয়াখালীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, ইমামকে পুলিশে সোপর্দ স্বামীর সঙ্গে ফোনে কলহের পর প্রবাসীর স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে গাঁজাসহ আটক ১ মেহেন্দিগঞ্জে ২৫ টি চোরা গরু সহ আটক—৩ ঈদুল আযহার শুভেচ্ছায় উন্নয়ন, ঐক্য ও মানবিকতার বার্তা দিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী জিতু জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ: বরিশালে আইনজীবী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর তীরে ফোরশোর এরিয়ায় অবৈধ ভবন নির্মাণ দর্শক দায়িত্বশীল দপ্তর কাউখালীতে গ্রাম আদালতের সেবা নিয়ে ভিডিও শো অনুষ্ঠিত কাউখালীতে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কাপড় বিতরণ অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুঃ বেলভিউ কর্তৃপক্ষের দুঃখ প্রকাশ
বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর তীরে ফোরশোর এরিয়ায় অবৈধ ভবন নির্মাণ দর্শক দায়িত্বশীল দপ্তর

বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর তীরে ফোরশোর এরিয়ায় অবৈধ ভবন নির্মাণ দর্শক দায়িত্বশীল দপ্তর

রবিউল ইসলাম রবি ॥ বরিশাল সদর উপজেলা কার্যালয় থেকে টিনশেড ভবনের প্ল্যান নিয়ে নকশাবহির্ভূত ভীম, পিলার ও ছাদ ঢালাই দিয়ে তিন তলা ভবন ফাউন্ডেশনের এক তলার নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে কীর্তনখোলা (ত্রিশ গোডাউন) নদীর তীরবর্তী ‘ফোরশোর এরিয়া’ এর মধ্যে। প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কার্যক্রম চলমান থাকলেও দায়িত্বশীল সরকারি দপ্তরগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ জানিয়েছেন, — বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য সহ লিখিত আকারে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরিশাল ডিসি অফিস থেকে আশির দশকে নগরীর রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন কীর্তনখোলা (ত্রিশ গোডাউন) নদীর তীরবর্তী সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পূর্বক দুই দাগে ৯০+৫০ শতাংশ জমি লিজ নেয়। পরে ক্রয়—বিক্রয় সূত্রে উক্ত জমির মালিক হন— মোসাম্মৎ জামিরুন নাহার (রুনু)। পরবর্তীতে রুনুর কাছ থেকে তার স্বামী ঠিকাদার মো. মতিয়ার রহমান দলিলমূলে ও রেকর্ডীয় সূত্রে মালিক হয়। ২০২২ সালের ৯ মার্চ বরিশাল সদর উপজেলা কার্যালয় থেকে টিনশেড ভবনের প্ল্যান পেলেও ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে নদীর তীরে ‘ফোরশোর এরিয়া’ এর মধ্যে সর্বপ্রথম ভীম, পিলার ও ছাদ ঢালাই দিয়ে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেন ঠিকাদার মো. মতিয়ার রহমান। কয়েক মাস পরই নানা জটিলতায় ভবন নির্মাণাধীন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি রহস্যজনকভাবে আবার শুরু হয়। নদীর তীরে ‘ফোরশোর এরিয়া’ এর মধ্যে স্থায়ী স্থাপনার কারণে জনমনে নির্মাণাধীন কার্যক্রমের বৈধ অবৈধতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

“কেউ টিনশেড ভবনের প্ল্যান নিয়ে নকশাবহির্ভূত ভীম, পিলার ও ছাদ ঢালাই দিলে তা বৈধ কিনা ?” জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, এটা অবৈধ। ইঞ্জিনিয়ারদের নির্বাহী পাওয়ার না থাকায় সরেজমিনে তাদের কিছু করার নেই।

ঠিকাদার মো. মতিয়ার রহমান বলেন, প্ল্যান তো আছে, হোক সেটা টিনশেড বা ভবনের যেটাই হোক। এইটুকু না হলে কেউ চলতে পারে না। নদীর তীরবর্তী ‘ফোরশোর এরিয়া’ এর মধ্যে হলেও জমির মালিক তিনি এবং বিষয়টি সম্পর্কে জেলার প্রধান কর্মকর্তা (ডিসি) বা অন্য দপ্তরের কেউ তো কিছু বলছে না।

একাধিক পরিবেশবাদী ও আইনজীবী জানিয়েছেন, “বাংলাদেশে সদর উপজেলা বা পৌরসভার মতো এলাকায় নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় ঘটানো এবং নির্ধারিত খালি জায়গা না রাখলে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা এবং অবৈধ অংশ উচ্ছেদের কড়া আইনি বিধান রয়েছে এবং উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে [১.২.১১, ১.৩.১]। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (ইঘইঈ) অনুযায়ী নকশাবহির্ভূত এমন নির্মাণ কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তাছাড়া, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯—এর তফশিলভুক্ত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা ও নির্মাণাধীন অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলতে পারে [১.৩.১]। এমনকি, আদালত চাইলে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিতে পারেন এবং সেই ভাঙার খরচও ভবন মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হয় [১.২.১১]।”

নদীর তীরবর্তী ‘ফোরশোর এরিয়া’ এর মধ্যে প্রকাশ্যে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত রয়েছেন— “বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা, বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল নদী বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আজহারুল ইসলাম, বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাবেদ ইকবাল ও বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের (বিভাগীয় কার্যালয়) সহকারী পরিচালক মোঃ সোহেল মাহমুদ।”

“কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ঠিকাদার মোঃ মতিয়ার রহমানের নির্মাণাধীন ভবনের প্ল্যান সদর উপজেলা থেকে দেওয়া হয়েছে কিনা? ” জানতে চাইলে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ ফরিদা সুলতানা শুরুতে জানিয়েছিলেন, জমির তথ্য তুলে ধরে আবেদন করলে জানানো যাবে। কারণ, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। তাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নেই।

পরবর্তীতে লিখিত আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করে ইউএনও’র বরাবর আবেদন করার পর তিনি বলেন, তদন্তে পাঠানো হয়েছে। অবশ্যই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। কিন্তু সরেজমিনে তদন্তের কোনো প্রভাব পড়েনি। কারণ, ইউএনও’র দেওয়া তদন্তে নির্দেশের মধ্যে অবৈধভাবে নির্মাণাধীন ভবনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে “নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ কার্যক্রমের তথ্যের মিল পেয়েছেন ইউএনও। ”

স্থানীয় এক সূত্র জানায়, কোরবানি উপলক্ষ্যে সরকারি বন্ধের মধ্যেই ঠিকাদার মতি ভবনের অসম্পন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি অবৈধভাবে নির্মাণের পর সেই অনুযায়ী অবৈধভাবে ভবনের প্ল্যান নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost