সোমবার, ১৫ Jun ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
বিশ্বকাপ মিশনের শুরুটা জয়ে রাঙাতে পারল না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১—১ গোলের ড্র করেছে সেলেসাওরা।
ম্যাচজুড়ে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও চেনা ছন্দে দেখা যায়নি ব্রাজিলকে। বরং শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মরক্কো। প্রথমার্ধে একাধিকবার ব্রাজিলের রক্ষণকে চাপে ফেলে আফ্রিকার দলটি।
ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ তৈরি করে মরক্কো। সপ্তম মিনিটে নুসাইর মাজরাউইয়ের ক্রস থেকে বেনজামিন এল আয়নাউইয়ের শট ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ব্লক করে বিপদ কাটান। পরক্ষণেই আশরাফ হাকিমির নিচু শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
প্রথমদিকে কিছুটা এলোমেলো খেললেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। ১৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ ক্রস থেকে ইগর থিয়াগো সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।
তবে ২১ মিনিটে ম্যাচে প্রথম আঘাত হানে মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে ব্রাজিলের রক্ষণ ভেঙে সামনে চলে যান ইসমাইল সাইবারি। এরপর গোলরক্ষক আলিসনকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল খাওয়ার পর ছন্দ ফিরে পেতে শুরু করে ব্রাজিল। ৩২ মিনিটে আসে তাদের জবাব। ব্রুনো গিমারায়েসের পাস পেয়ে বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো কোনো সুযোগই পাননি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৫০তম ম্যাচে এটি ছিল ভিনিসিয়ুসের স্মরণীয় গোল।
গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি মরক্কো। হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ ও সাইবারিদের একের পর এক আক্রমণে চাপে ছিল ব্রাজিল। অন্যদিকে প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাকেতা ও মারকিনিওসের সুযোগ থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি সেলেসাওরা।
বিরতির পর ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা বাড়ালেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল। মরক্কোও রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
বিশ্বকাপের শুরুতেই ড্রয়ে থামতে হওয়ায় শিরোপা প্রত্যাশী ব্রাজিলের জন্য এটি কিছুটা হতাশার ফল। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ড্র করে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করল মরক্কো।