শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
কলকাতার ঐতিহাসিক গৌরীপুর জামে মসজিদে (বাঁকড়া মসজিদ) নামাজ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে প্রায় ১ কোটি মুসলিম রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছিল। তাদের এই বিপুল সমাগম ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দরসংলগ্ন বাঁকড়া এলাকার ৭ নম্বর গেট ও মসজিদ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে বিধাননগর পুলিশ প্রশাসন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। প্রশাসন জানিয়েছে, বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে ওই এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (যা পূর্বে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল) জারি করা হয়েছে।
এদিন সকাল থেকেই থমথমে বাঁকড়া এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে সকাল থেকেই মাইকিং করে প্রচার চালানো হচ্ছে।
মাইকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, এলাকায় ১৬৩ ধারা (১৪৪ ধারা) জারি থাকায় একসঙ্গে চার বা তার বেশি মানুষ কোনোভাবেই জমায়েত হতে পারবেন না। অবাঞ্ছিত বা বহিরাগত কাউকেই মসজিদের প্রবেশপথের দিকে এগোতে দিচ্ছে না কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা।
এর আগে, বৃহস্পতিবার জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলন করে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি মুসলিমকে কালো ব্যাজ পরে শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজে শামিল হওয়া আহ্বান জানান। একইসঙ্গে মসজিদে নামাজ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে বাঁকড়ার ৭ নম্বর গেটের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করা ঘোষণা দেন।
এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি অনুযায়ী রানওয়ে থেকে যে কোনো স্থায়ী কাঠামোর দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এই মসজিদটি মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। ফলে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন লাখ লাখ বিমানযাত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ ছাড়া পাস ছাড়া শুধুমাত্র আধার কার্ড দেখিয়ে সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশের বিষয়টিকেও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো। এই সুরক্ষাজনিত কারণেই মসজিদে সাধারণের প্রবেশ ও নামাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর জেরে আজ জুমার নামাজের দিন বিমানবন্দর এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হলো।