
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ফেসবুক মেসেঞ্জারে এক স্কুলছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার পর অন্য কেউ এসব বার্তা পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষক উপজেলার সুটিয়াকাঠি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (আইটি শিক্ষক) পদে কর্মরত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর ফেসবুক আইডি মাঝে মাঝে তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে ব্যবহার করে। ওই আইডিতে মেয়ের স্কুলের ওই শিক্ষকের ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব ও অশালীন বার্তা পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি জানার পর ছাত্রীর বাবা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানান। তবে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ওই শিক্ষক বলেন, ২৯ জুলাই আমার এ বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারি, আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। পরে আমি আমার আইডি পরিবর্তন করেছি।
তবে তার আইডি ঠিক কবে হ্যাক হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ছাত্রীর ভগ্নিপতি ও কয়েকজন যুবক তার বাড়িতে গিয়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সুটিয়াকাঠি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, বিষয়টি আমাকে জানানো হলে আমি শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকে বসে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ওই শিক্ষক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আমি সঠিক বিষয়টি জানতে চাই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো শিক্ষক করে থাকলে তার শিক্ষকতা করার অধিকার নেই।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।