
বরিশালের মুলাদীতে বহুল আলোচিত কলেজছাত্রী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি ও ছবিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি মেম্বার) আলী আহমেদ সোহাগ খানকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। মামলার সূত্র ধরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন আগে শাহীন শিকদারের মেয়ে স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মুলাদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহাগ খান গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। অবশেষে পুলিশি তৎপরতায় তিনি আইনের আওতায় এলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধির মুখোশের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এই সোহাগ খান। তাঁর বিরুদ্ধে কেবল অপহরণই নয়, একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে:
পরকীয়া ও ব্ল্যাকমেইল: বোয়ালিয়ার বাসিন্দা ইউসুফ ব্যাপারীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
প্রবাসী সম্পদ আত্মসাৎ: প্রবাসীদের কষ্টার্জিত উপার্জনে গড়ে তোলা জমি ও বাড়িসহ বিপুল সম্পত্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগীরা।
জনপ্রতিনিধি সোহাগ খানের এই গ্রেফতারের খবরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর দাবি, অপরাধী প্রভাবশালী হওয়ায় যেন কোনো প্রকার আইনি ফাঁকফোকর বা তদবিরের জোরে পার পেয়ে না যান। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। মামলাটির যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।