
বরিশালের মুলাদী উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামে মসজিদের মাইক চুরির সন্দেহে রমজান মিয়া (২৫) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মুলাদী থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আহত রমজান মিয়া হোসনাবাদ গ্রামের ইছুব আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। কিছুদিন আগে তিনি এলাকার আহমদ আলী হাওলাদার জামে মসজিদে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সালাম হাওলাদার (পিতা—মতি হাওলাদার), বেল্লাল (পিতা—হাসি সেক)সহ কয়েকজন রমজানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে সেখানে ১০ থেকে ১৫ জন মিলে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হওয়ার পরও তাকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে মুলাদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রমজানকে উদ্ধার করে। পরে তাকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের দাবি, আহত রমজানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রমজানের নানার অভিযোগ, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দিলে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং এলাকায় থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার সোহেল রানা মোবাইল ফোনে বলেন, “আমার থানায় এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ হয়নি এবং বিষয়টি আমার জানা নেই।”
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা জানতে পুলিশি তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।