
বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) কোতয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা একটি নারী নির্যাতন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না করা এবং অনলাইন জিডি গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি (ডি অ্যান্ড পিএস—১)—এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মামলার বাদী তাজকিয়া জাহান লিপি।
আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা নং—৫২ দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০—এর ১০ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়। মামলায় নূর মোহাম্মদ ও ইশিকাসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) রাজিব দাস সনেট দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। প্রধান আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে একাধিকবার কোতয়ালী মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তদন্তে প্রয়োজনীয় তদারকি করেননি। এছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তা নাকি বাদীকে জানিয়েছেন, ওসির নির্দেশে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাদীর অভিযোগ, মামলার পর থেকে আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় তিনি ৩ এপ্রিল ২০২৬ বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন জিডি অ্যাপ/পোর্টালের মাধ্যমে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জিডিটি গ্রহণ বা নিষ্পত্তি করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগতভাবে থানায় গিয়ে জিডির বিষয়ে অনুরোধ জানালেও ওসি কোনো সন্তোষজনক কারণ ছাড়াই তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে থানা ত্যাগ করতে বলেন।
আবেদনে তাজকিয়া জাহান লিপি দাবি করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫—এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গ্রহণে অবহেলা বা আসামিদের সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু আইন থাকা সত্ত্বেও তিনি কাঙ্ক্ষিত আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
এ অবস্থায় তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজির কাছে মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, তদন্ত কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, অনলাইন জিডি দ্রুত কার্যকর করা এবং জিডি গ্রহণে বিলম্ব বা অবহেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানা বা অভিযুক্ত পুলিশ তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন মামলার চার্জশিট অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে।আসামী আটক না করার বিষয়টি মিথ্যা,বাদী যা করার তা করুক, তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।