
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর বাহেরচর গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লামিয়া (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর ঢাকায় আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এনে ২ সেপ্টেম্বর সকালে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহত লামিয়া অসুস্থ ও শয্যাশায়ী আলী হায়দারের মেয়ে। তিনি এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে পরিবারের ভরণ-পোষণেও সহযোগিতা করতেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একই এলাকার আলাউদ্দীন আকনের ছেলে সুমন আকন (২৫)-এর সঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে লামিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সুমন বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত। লামিয়ার ছোট ভাই কাওসার জানান, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি উভয় পরিবারেরই জানা ছিল। তবে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর সুমন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়া সম্প্রতি সুমনের মা ও বোন লামিয়াকে মারধর করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কাওসারের দাবি, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পরে তা থেকে সরে আসা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করার কারণেই তার বোন আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিহতের বড় খালা জহুরা বেগম বলেন, “লামিয়া এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তার কয়েকজন সহপাঠী প্রথমে ফোন করে আত্মহত্যার খবর জানায়। পরে তাদের কাছ থেকে জানতে পারি, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে লামিয়াকে সুমন নামের এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলতে এবং কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবর আকন বলেন, “লামিয়া পরিবারের বড় মেয়ে ছিলেন। অসুস্থ বাবার সংসারে পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেন। তার অকাল মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন আকনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের জানান, লামিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।