সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
উজিরপুরে তীব্র লোডশেডিং, পরীক্ষার্থীসহ জনজীবন বিপর্যস্ত মেহেন্দিগঞ্জে ইউএনও’র উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে পেট্রোল-ডিজেল বিক্রি মাদক কারবারিকে ধরে পুলিশে দিলেন ছাত্রদল নেতা বিএনপির মনোনয়ন পেলেন জীবা আমিনা খান ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে গৌরনদীতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ সরকার রাষ্ট্র ও সমাজে আইনানুগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি-অনিয়মে জর্জরিত বাউফল উপজেলা খাদ্য অফিস ভোলায় অস্ত্রসহ ২ ডাকাত আটক কাউখালীতে লক্ষাধিক টাকার অবৈধ চরগড়া জাল জব্দ কাউখালীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন কাউখালী ভূমি অফিসের পেশকারের বিরুদ্ধে রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে  ভান্ডারিয়ায় বিভিন্ন চুরির সাথে জড়িত আশফাকুুজ্জামান জয় কাজী গ্রেফতার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অফিস ভাঙচুর করলেন বিক্ষুব্ধ নারীরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আমরণ অনশন হিজলায় মেঘনা নদীতে অভিযান: ১৬ লাখ টাকার গলদা রেনুপোনা জব্দ, ৩৫ জেলে আটক মঠবাড়িয়ায় ‘ভুয়া’ ডি-কার্ড হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার: ২ বছরের কারাদণ্ড মেহেন্দিগঞ্জে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক মামলার আসামি গ্রেফতার জ্বরের রোগীকে কুকুরের ভ্যাকসিন দিলেন ডাক্তার কুড়িগ্রামে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ৯ ৯ দফা দাবিতে বরিশালে ইজিবাইক—রিকশা শ্রমিকদের সমাবেশ
দুর্নীতি-অনিয়মে জর্জরিত বাউফল উপজেলা খাদ্য অফিস

দুর্নীতি-অনিয়মে জর্জরিত বাউফল উপজেলা খাদ্য অফিস

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ’র বিরুদ্ধে পাহাড় সমপরিমাণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের চাল বেশি দামে সংগ্রহ, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে অবৈধ ডিলারকে চাল দেয়া, কার্ড পরিবর্তনে টাকা গ্রহণ, আওয়ামীপন্থী ডিলারদের বিশেষ সুবিধা প্রদান সহ নানা অভিযোগ তার বিরূদ্ধে। ইতমধ্যে তিনি এসব আড়াল করতে নড়েচড়েও বসেছেন। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, পাহাড় সম দুর্নীতি করে নিরাপদে অন্যত্র বদলী হওয়ার স্বপ্নে আখের গোছাচ্ছেন নুরুল্লাহ।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে নীতিমালায় রয়েছে ডিলার পরপর দুই মাস নির্ধারিত তারিখের মধ্যে উপযুক্ত কারণ ব্যতিত খাদ্যশস্য উত্তোলন করতে ব্যর্থ হলে ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু বাউফলে ৫/৬ মাস ডিলার খাদ্যশস্য উত্তোলনে ব্যর্থ হলেও এ নীতিমালার তোয়াক্কা করেন না অসাধু খাদ্য কর্মকর্তা নুরুল্লাহ।

তাছাড়া বাউফলে দুইটি খাদ্য গুদাম রয়েছে- একটি বগা খাদ্য গুদাম অপরটি কালাইয়া খাদ্য গুদাম। বগা খাদ্য গুদামে ২০২৬ সনে আমন চাল সংগ্রহ করা হয় মেসার্স সোনাই অটো রাইস মিল কালিশুরী, প্রোপ্রাইটর স্বপন চৌধুরীর মাধ্যমে। সেখান থেকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা হয় এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও বাউফল উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি উপকারভোগীদের মাঝে চাল সরবরাহ করা হয় ফ্যাসিস্ট আমলের খাদ্য বান্ধব সহায়তা কার্ডে। যার শ্লোগান ছিল ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ম করেন উপকারভোগীদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার শ্লোগান সম্বলিত পুরাতন কার্ড তুলে এনে বিনামূল্যে নতুন কার্ড সরবরাহ করা হবে। কিন্তু উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বাউফলের ২০/২২ হাজার কার্ড পরিবর্তনের নাম করে প্রতিটি কার্ড থেকে ২০০-৩০০ টাকা হাতিয়ে নেন। তাতে লক্ষ লক্ষ টাকার উপরে বাণিজ্য হয়। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এই দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বগা-কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে নিম্নমানের চাল বাউফল উপজেলা ডিলারগণের কাছে সরবরাহ করা হয়।

সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট দোসররা পালিয়েছে। যার কারণে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের স্থলে অন্যলোকের মাধ্যমে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণ করে আসছে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর ফ্যাসিস্ট দোসররা এলাকায় ফিরে এসে বাউফলে খাদ্য অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ ঘুষখোরদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে স্বপদে বহালের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। বাউফলে ১৩ জন ফ্যাসিস্ট দোসর একতাবদ্ধভাবে খাদ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তারা হল- বাউফল ইউনিয়নে বিনা ও শাহজাহান, নাজিরপুর ইউনিয়নে সেলিম, মদনপুরা ইউনিয়নের মোতাহার, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মৃধা, ১৪ নং নওমালা ইউনিয়নের কৃষক লীগ সভাপতি মোঃ চান মিয়া মৃধা, ১ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ ওয়াহেদ খান, ২ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সহসভাপতি নুর ইসলাম গাজী।

বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমরা নিয়মের বাইরে কোন কাজ করিনা। কোন কিছুতে নিয়মের ব্যতিক্রম হলে সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে করা হয়। ইউএনও স্যারের নলেজে না দিয়ে আমরা নিয়মের বাইরে কোন কাজ করিনা।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ বলেন, আমি এখানে এসেছি চার মাস হয়েছে। এরমধ্যে আমার জানামতে এ ধরনের কোন কাজের নির্দেশনা আমি দেইনি। তবে পূর্বে এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদেরকে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2019, All rights reserved.
Design by RaytaHost
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com