, , ,
শিরোনাম
পাঁচ বাসে মিলল ১৩ লাখ টাকার নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ-জাটকা কাঁঠালিয়ায় অবৈধ ইটভাটার চিমনি ও চুল্লি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন শ্বশুরবাড়িই ছিল জামাতার ইয়াবা মজুতের আস্তানা, ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ২ উন্নত চিকিৎসা সেবার প্রত্যয়ে বরিশালে ল্যাবএইড এর সেবা দিবস’ পালিত বরিশালের কাজিরহাটে কোচিং সেন্টারের কাঠের মাচা ভেঙে ৩০ শিক্ষার্থী আহত ‘ঘরের ভেতর অলৌকিক জোড়া কবর’, রহস্য উদঘাটন ৩৫ হাজার টাকায় শিশু বিক্রি, স্কুলশিক্ষিকাসহ কারাগারে ৩ নারী মেহেন্দিগঞ্জে ৫বছরের শিশু মাদ্রাসা থেকে আদালতের বারান্দায় পুলিশের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন ভাণ্ডারিয়ায় আল-গায়যালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ফাজিল পরীক্ষার কেন্দ্র স্থগিত
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৪১৬ সিসি ক্যামেরার একটিও সচল নেই

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৪১৬ সিসি ক্যামেরার একটিও সচল নেই

Reporter
প্রতিবেদক : বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত : সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

বরিশাল নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিটি করপোরেশনের স্থাপন করা প্রায় ৪১৬টি সিসি ক্যামেরার একটিও এখন সচল নেই। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে পুরো প্রকল্প। কোথাও খুঁটির সঙ্গে ঝুলে আছে ক্যামেরা, কোথাও আবার নেই সংযোগের তার। এতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নেয়া উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী। অন্যদিকে নগর পুলিশের স্থাপন করা ২৩৯টি ক্যামেরার মধ্যে সচল রয়েছে ২১০টি। নজরদারির পরিধি বাড়াতে আগামী ছয় মাসে আরও ৫১০টি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ ও সিটি করপোরেশন।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও বিভিন্ন স্থাপনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একসময় বসানো হয়েছিল সিসি ক্যামেরা। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযত্ন—অবহেলায় এখন সেগুলোর সবই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫—১৬ অর্থবছরে নাগরিকদের দেয়া করের টাকায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ৫৮টি স্পটে ৪১৬টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে ক্যামেরাগুলো। একপর্যায়ে একটি ক্যামেরাও সচল থাকেনি। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ক্যামেরা চুরি হওয়ার পাশাপাশি খোয়া গেছে সংযোগের তারও। ফলে জননিরাপত্তায় নেয়া গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

মানবাধিকার কমিশনের বরিশালের সাধারণ সম্পাদক কাজী আল মামুন বলেন, ‘নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য জনগণের করের টাকায় স্থাপন করা ক্যামেরাগুলো এভাবে অচল পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব ক্যামেরার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করা প্রয়োজন ছিল।’

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘নগরীর নিরাপত্তায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সেগুলো সচল রাখতে না পারা দায়িত্বশীলতার অভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হয়। জনগণের অর্থের এমন অপচয়ের জবাবদিহি থাকা উচিত। একই সঙ্গে যেসব ক্যামেরা চুরি হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার।’

প্রায় ৯ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সিটি করপোরেশনের ক্যামেরাগুলো সচল করতে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। নগরবাসীর অর্থে স্থাপন করা প্রকল্পের সুফল না মিললেও এর দায় নিতে চাইছেন না সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) অহিদ মুরাদ জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও ক্যামেরা চুরি হয়েছে, কোথাও সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এগুলো পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা, মেরামত ও অর্থ বরাদ্দের বিষয় রয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রুম্পা সিকদার বলেন, ‘নগরীর নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুরোনো ক্যামেরাগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে সেগুলো সচল করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি নগর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।’

সিটি করপোরেশনের ক্যামেরাগুলো অচল থাকলেও নিজেদের উদ্যোগে নগরীর নিরাপত্তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। নগর পুলিশের স্থাপন করা ২৩৯টি ক্যামেরার মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ২১০টি। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। এ কারণে আগামী ছয় মাসের মধ্যে কয়েক ধাপে আরও ৫১০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ জানান, ‘নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরার নজরদারি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। বর্তমানে পুলিশের স্থাপন করা ২৩৯টি ক্যামেরার মধ্যে ২১০টি সচল রয়েছে। তবে নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এখনো নজরদারির আওতায় আসেনি। এ ঘাটতি পূরণে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও ৫১০টি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ক্যামেরা চালু হলে অপরাধ শনাক্ত, অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া আরও সহজ হবে।’

এদিকে পুলিশের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও নগরীর বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রবণতা বাড়ছে। তবে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল মহানগরীর সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সিটি করপোরেশনের পুরোনো ক্যামেরাগুলো সচল করার পাশাপাশি নতুন ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে নগরীর আরও বিস্তৃত এলাকা নজরদারির আওতায় আসবে। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর নিরাপত্তা ও স্বস্তি বাড়বে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost