
বরগুনার আমতলীতে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছেন তাঁদের জামাতা সবুজ মৃধা। পুলিশের দাবি, শ্বশুরবাড়িতে ইয়াবা মজুত করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন সবুজ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার পূর্ব চুনাখালী গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার দম্পতি হলেন ওই গ্রামের সেলিম প্যাদা (৫৫) ও তাঁর স্ত্রী কহিনুর বেগম। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে পূর্ব চুনাখালী গ্রামের সেলিম প্যাদার বাড়িতে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এ সময় সেলিম প্যাদার স্ত্রী কহিনুর বেগমের কাছ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরও ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। এ ছাড়া ইয়াবা বহন ও মোড়কজাতকরণে ব্যবহৃত ব্যাগ, স্কচটেপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান সবুজ মৃধা। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ সেলিম ও কহিনুর বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জামাতা সবুজ মৃধা পালিয়ে গেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সবুজ মৃধা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে শ্বশুর বাড়িতে মজুত রাখতেন। পরে সেখান থেকে গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকায় এসব ইয়াবা বিক্রি করতেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলার চুনাখালী বাজার, চরখালী, কালিবাড়ী ও গোজখালী গ্রামে রাতের আঁধারে মাদক কেনাবেচা চলে। সায়েখ হাওলাদার ও তাঁর ভাই শাহীন হাওলাদার, বাবলু এবং রিনা বেগম নামের কয়েকজন এসব মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন ও পলাতক সবুজ মৃধার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আমতলী থানায় মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।