বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ পুলিশের একজন অভিজ্ঞ ও আলোচিত কর্মকর্তা ডিআইজি মো. গোলাম রউফ খান পিপিএম (বার) কে ঘিরে কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ পুলিশ-এর এই কর্মকর্তা খুলনা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনের প্রথম দিকের ধাপগুলোতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এরপর তাকে বিএনপি-জামাতপন্থী আখ্যা দিয়ে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
খুলনা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে তাকে বরিশাল পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উপজেলার পরবর্তী ধাপে নির্বাচনে সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এ সময় তাকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) হিসেবে যোগদান করে তিনি দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের দাবি, এ সময়ে তিনি দক্ষতা, মেধা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, তার সততা ও নিরপেক্ষ অবস্থানই বারবার তার জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৮ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাতে তার অবস্থান কঠোর হওয়ায় তাকে দ্রুত অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।৩১ জুলাই ২০১৮ সালে সিটি কর্পোরেশনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই তাকে বরিশাল থেকে বদলি করে ট্যুরিস্ট পুলিশে এসপি হিসেবে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া এসব প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তিনি একাধিকবার বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ডিআইজি গোলাম রউফ যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই তিনি একজন সৎ, নির্ভীক ও কর্মদক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার কাজের ইতিবাচক স্মৃতি এখনো বিদ্যমান রয়েছে।
Leave a Reply