বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন
ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জনতার হাতে আটক হয়েছেন মো. আজাদ শেখ (৩৫) নামে এক যুবক। পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।বুধবার (৬ মে) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া এলাকায় ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরের আলমারির ভেতর থেকে তাকে আটক করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরের আলমারির ভেতর খালি গায়ে লুকিয়ে আছেন আজাদ। তাকে আলমারির ভেতর থেকে বের করার চেষ্টা করছেন কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় অনেককে ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে দেখা গেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আলোচনায় আসা আজাদ শেখ বড় খারদিয়া গ্রামের বর শেখের ছেলে। তিনি বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয়দের দাবি, ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ছেলে বড় খারদিয়া স্কুলে পড়ে। ছেলেকে স্কুলে আনা—নেওয়ার সময় দপ্তরি আজাদের তার পরিচয় হয়। পরে তারা দুজন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। যে কারণে মাঝে মাঝেই গভীর রাতে ওই নারীর ঘরে যাওয়া—আসা করতো আজাদ। বিষয়টি স্থানীরা টের পেলে রাতে পাহারা দিতে থাকে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আজাদ ওই নারীর ঘরে ঢুকলে স্থানীয় লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পরে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে একটি আলমারির ভেতর লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে বের করে আটক করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি ঘটনার পর আজাদকে পুলিশে না দিয়ে মোটার অঙ্কের টাকার বিনিময় তাকে ছেড়ে দেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন প্রবাসীর স্ত্রী। তবে স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে তার ভাষ্য মিল পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, রাতে পাশের বাড়ির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। পরে বাড়িতে এসে দেখি আজাদ ঘরের ভেতরে। এ সময় আজাদ আমাকে চুপ থাকতে বলেন। কিন্তু প্রতিবেশীরা যখন আমার বাড়ি ঘিরে ফেলে, তখন ভয় পেয়ে আজাদ আলমারিতে লুকিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা এসে তাকে আটক করেন।
তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইরন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সবই ভিত্তিহীন। এখানে কোনো সমস্যা নেই। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন তিনি।
বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা খান লিমা বলেন, আজাদের স্ত্রী ফোন করে তার জন্য ছুটির আবেদন করেন। আমি ছুটি মঞ্জুর করি। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
সালথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তামেম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমি বর্তমানে প্রশিক্ষণে আছি। রোববার অফিসে এসে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় যদি স্কুল দপ্তরি আজাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তিনি দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হতে পারে।
Leave a Reply