শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
পরিবারের কাউকে না জানিয়ে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ১০ বছরের শিশুকে বেড়াতে নিয়ে ৩৮ বছরের এক বিবাহিত যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পর ১২ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতে ওই শিশুকে তার পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করেছেন। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাগুরা গ্রামের।
ওই গ্রামের দিনমজুর শ্যামল বালা অভিযোগ করে বলেন, গত ২৬ এপ্রিল রাতে আমার ৫ম শ্রেনী পড়ুয়া ১০ বছর বয়সী শিশু কন্যা নিখোঁজ হয়। এঘটনায় ২৭ এপ্রিয় গৌরনদী মডেল থানায় সাধারণ ডায়রী করি। বুধবার জানতে পারি আমার মেয়েকে গোপালগঞ্জ জেলার মোকছেদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের খালকুলা এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করে মেয়েকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে এসেছি। মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর জানতে পারি, একই বাড়ির কমল বাড়ৈর কন্যা মেঘা বাড়ৈ আমার শিশু কন্যাকে ফুসলিয়ে মোকছেদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের খালকুলাস্থ শশুর বাড়িতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমাদের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে আমার শিশু কন্যাকে ৩৮ বছরের বয়স্ক ভগরত নামের এক যুবকের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেয় মেঘা ও তার স্বামী রাজু ঢালী। অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে ১২ দিন আটকে রেখে শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমার মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়ে মেঘার বাবা কমল বাড়ৈ সবকিছু জানলেও সে আমাদের কিছুই জানায়নি। আমার মেয়ে বর্তমানে অসুস্থ। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার রাতে নির্যাতিতা ওই শিশু অভিযোগে জানা গেছে, একই বাড়ির চাচাতো বোন মেঘা বাড়ৈ ফুসলিয়ে ওই শিশুকে মেঘার শশুর বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে ভগরত ঢালী নামের বিবাহিত এক যুবকের সঙ্গে নির্যাতিতা শিশুকে জোরপূর্বক ভাবে বিয়ে দেয় মেঘা ও তার স্বামী রাজু ঢালী। পরবর্তীতে ওই যুবক তার (শিশু) ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌণ সম্পর্ক করে। এসময় সে কান্নাকাটি করে বাড়িতে আসার চেষ্টা করলে যুবক ভগরত ঢালী তাকে জানায় যে, ২ লাখ টাকার বিনিময়ে মেঘা ও তার স্বামীর কাছ থেকে তাকে ক্রয় করেছে। অভিযোগে আরও জানা গেছে, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ওই শিশুকে ১২ দিন আটকে রেখে যৌণ নির্যাতনের পাশাপাশি শারিরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত মেঘা বাড়ৈ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই শিশুকে আমরা বিয়ে দেইনি। সে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে। এবিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Leave a Reply