বৃহস্পতিবার, ০৪ Jun ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যক্রম চরম জনবল সংকটে কার্যত ভেঙে পড়েছে। চারটি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে একটি পদেও স্থায়ী কর্মকর্তা—কর্মচারী না থাকায় অফিসটি নামমাত্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে ভিজিডি কর্মসূচি, মাতৃত্বকালীন ভাতা, মহিলা উন্নয়ন সমিতি, ক্ষুদ্র ঋণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার অসংখ্য নারী।
জানা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়ক—এই চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নুসরাত জাহান। তিনি ঢাকায় বদলি হওয়ার পর জিয়ানগর উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নূরে জান্নাত ফেরদৌসীকে কাউখালী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সপ্তাহে একদিন কাউখালী অফিসে এসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নারীরা অফিসে কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন ভাতা ও ভিজিডি কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের জয়কুল গ্রামের বাসিন্দা লাইজু বেগম বলেন,মাতৃত্বকালীন ভাতার বিষয়ে খোঁজ নিতে কয়েকবার অফিসে এসেছি। কিন্তু অফিসে কোনো কর্মকর্তা—কর্মচারী পাইনি। বারবার এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বেতকা গ্রামের বাসিন্দা মরিয়ম আক্তার বলেন,ভিজিডি কার্ড সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য অফিসে এসেছিলাম। কিন্তু অফিসে কাউকে না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।
কাউখালীতে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নূরে জান্নাত ফেরদৌসী বলেন,কাউখালী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত সক্ষমতায় সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার বলেন,কাউখালী অফিসে জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জনবল সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি জেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।