মঙ্গলবার, ০৯ Jun ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবির বিদ্যালয়ের বই পুড়িয়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (০৮ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মাঠে প্রধান শিক্ষক আগুন ধরিয়ে এ বই পুড়িয়ে দেন। তার এমন কর্মকান্ডে বিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা রয়েছে। তার অপকর্ম আড়াল করতেই বইয়ের সঙ্গে নথি পুড়িয়ে ফেলেছেন।
জানাগেছে, আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গত ২০ বছরের নতুন—পুরাতন বই, আসবসবপত্র বিদ্যালয়ের একটি ভবনে রাখা ছিল। ওই ভবনের সমুদয় বই ও আসবাব পত্র সোমবার দুপুরে প্রধান শিক্ষক প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমতি না নিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন। এ সময় বিদ্যালয়ে ধোয়ায় একাকার হয়ে যায়। এতে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক শাহ আলম কবিরের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দুদকে মামলা চলমান। দুর্নীতির আলামত নষ্ট করতেই তিনি বইয়ের সাথে আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলেছেন।
শিক্ষার্থী লামিয়া ও জান্নাতি বলেন, প্রধান শিক্ষক অনেক নতুন ও পুরাতন বই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এ সময় বিদ্যালয়ে ধোয়ায় একাকার হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক কাউকে না জানিয়ে বই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা আরো বলেন, তার দুর্নীতির আলামত নষ্ট করতেই এ কান্ড করেছেন প্রধান শিক্ষক। তদন্ত করে বই পুড়ে ফেলার মুল কারন বের করার দাবী তাদের।
প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবির বলেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পুরাতন বই ও আসবারপত্র পুড়িয়ে ফেলেছি, কোন নতুন বই পুড়ে ফেলে হয়নি।
আপনী বইতে আগুন দিতে প্রশাসন ও ব্যবস্থা ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি ?
আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপার ভাইজার মো. গোলাম মাহমুদ সেলিম বলেন, বই পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে ও শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেনি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।