ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিষয়টির সত্যতা উদঘাটনে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার বোন মাছুমা হাদি।
সোমবার (৮ জুন) সকাল ১১টায় ঝালকাঠির নলছিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
মাছুমা হাদি বলেন, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের পেছনের রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারের বিনীত অনুরোধ, আপনি দ্রুত আমার ভাই ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ফিরে পাবে।”
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তদের দেশত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
মাছুমা হাদি বলেন, “২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর কীভাবে অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়ে গেল, তা তদন্ত করে বের করতে হবে।” একই সঙ্গে কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বারবার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের সময় পরিবর্তন হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, অর্থদাতা এবং সরাসরি জড়িত সকল ব্যক্তিকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে জাতির সামনে প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেয়, তবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সক্ষম ব্যক্তিকে সুযোগ করে দেওয়া উচিত।”
সংবাদ সম্মেলনে নিহত ওসমান হাদির ভগ্নিপতি মো. আমির হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।