বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন—সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে প্রস্তুত করা প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সই করেছেন। এখন তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যাবে। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। ওই মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ছিলেন সাকলায়েন। পরীমনির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর তাকে বদলি করা হয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
পরে পরীমনির বিরুদ্ধে নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তার বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। বিদেশি মদসহ তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তিন দফায় মোট সাত দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর ১ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
রাত্রিযাপনের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে প্রথমে সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে মিরপুরের পিওএমে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাকে ঝিনাইদহ ইন—সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিবিতে কর্মরত অবস্থায় পরীমনির সঙ্গে সাকলায়েনের পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় তিনি পরীমনির বাসায় নিয়মিত রাত্রিযাপন করতেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার দেওয়া কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময়ে পরীমনির বাসায় অবস্থান করেছেন।
পরীমনির মোবাইল ফোনের ফরেনসিক প্রতিবেদনে তাদের ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া কথোপকথনের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে বলা হয়, এসব যোগাযোগ সাধারণ পরিচয় বা পেশাগত সম্পর্কের নয়, বরং অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
এ ছাড়া সিআইডির ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ আগস্ট স্ত্রী বাসায় না থাকা অবস্থায় সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে যান পরীমনি। সেখানে প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সাকলায়েন পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পাওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১৩ জুন এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হয়। চিঠিতে পরীমনির সঙ্গে সাকলায়েনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, রাত্রিযাপন এবং সরকারি বাসভবনে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় অবস্থানের তথ্য উল্লেখ করা হয়।
পিএসসির মতামত পাওয়ার পর এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গুরুদণ্ড হিসেবে গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে।