বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া বন্দরের হাজি চান মিয়ার ঘাট এলাকায় সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে চলছে নির্মাণকাজ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আরসিসি সড়কটি বাস্তবায়ন করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫০ মিটার দীর্ঘ এই আর সিসি সড়কটির অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে সড়কের মাঝখান থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না করেই নির্মাণকাজ করায় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন আরসিসি সড়কের ঠিক মাঝখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। এই খুঁটিটিকে রেখেই ইতোমধ্যে সড়কের দুই পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং বালু ভরাটের কাজ শেষ করা হয়েছে। ইয়াসিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার মো. সোহাগের লাইসেন্সে রুহুল্লাহ নামের এক সাব—ঠিকাদার সড়কের নির্মাণকাজ করছেন। আগামী ২—৩ দিনের মধ্যেই সড়কে রড বাঁধা ও আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরুর কথা রয়েছে। কিন্তু এখনো মাঝরাস্তার খুঁটিটি সরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হাজি চান মিয়ার ঘাট দিয়ে প্রতিদিন আমাদের মালামাল লোড—আনলোড করতে হয়। রাস্তার মাঝখানে যেভাবে আস্ত একটা খুঁটি রেখে গাইড ওয়াল আর বালু ফেলা হয়েছে, তাতে ঢালাই হলে একটা ভ্যানগাড়িও পার হতে পারবে না। ঠিকাদার কাজ শেষ করে বিল তুলে নিয়ে যাবে। আর আমাদের সারাজীবন ভুগতে হবে।
ঘাট এলাকার ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাস্তাঘাট ভালো হইলে আমাগো সুবিধা, কিন্তু এইখানে খুঁটি থাহায় আমরা কোনো গাড়ি লইয়া যাইতে পারুম না। পিছনের মাল মাথায় কইরা টানা লাগবে। এই খুঁটি না সরাইয়া রাস্তা করার কোনো মানেই হয় না।’ খুঁটি না সরিয়ে কাজ করার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইয়াসিন এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি (সাব—ঠিকাদার) রুহুল্লাহর সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বাউফল এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আলী ইবনে আব্বাস বলেন,আমরা শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি। সড়কের দুই পাশের গাইড ওয়াল ও বালু ভরাটের কাজ শেষ, ২—৩ দিনের মধ্যে রড বেঁধে ঢালাই দেওয়া হবে। সড়কের মাঝের খুঁটিটি সরানোর দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের। আমাদের কাজ তো আর বন্ধ রাখা যাবে না।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমাকে কেউ জানায়নি। এই প্রথম আপনার মাধ্যমে শুনলাম। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।