রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামে গার্মেন্টসকর্মী সজল কুমার দেউরীর আত্মহত্যার ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। ঘটনার ১৩ দিন পর নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার দাবি করেছেন, আত্মহত্যার পেছনে পরকীয়ার কোনো বিষয় ছিল না; বরং পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মানসিক চাপই এ ঘটনার কারণ। একইসঙ্গে নিহতের মা ও ছোট ভাইও জানান, তারা কখনো পরকীয়ার কোনো বিষয় জানতে পারেননি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সজল কুমার দেউরীর মৃত্যুর পর একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরকীয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে প্রতিহিংসাবশত এক কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীকেও এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার সাংবাদিকদের বলেন, আমার সঙ্গে আমার স্বামীর সুসম্পর্ক ছিল। ঘটনার সাত—আট দিন আগে থেকে দেবর ও শাশুড়ির সঙ্গে আমার স্বামীর জায়গা—জমি এবং ঘর ভাগাভাগি নিয়ে কথা কাটাকাটি চলছিল। সেই বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতিই ছিল এই আত্মহত্যা। এখানে পরকীয়ার বিষয়টি এনে প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এক সময় আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। আমার স্বামীর চাকরির সুবাদে সংসারের অবস্থার উন্নতি হয়। কিন্তু দেবর সুজিত কুমার দেউরী ও জা রাত্রি রানীর পক্ষ নিয়ে শাশুড়ি প্রায়ই ঝগড়া—বিবাদ করতেন। আমার স্বামী তখনই সংসার আলাদা করতে চাননি।
রঞ্জিতা রানীর অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে মিথ্যা পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে তার স্বর্ণালংকার ও ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ছোট মেয়েকে নিয়ে তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, শ্বশুরবাড়িতে ফিরতে গেলে তাকে হুমকি—ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
নিহতের ছোট ভাই সুজিত কুমার দেউরী বলেন, আমার বড় ভাই আমার কাছে বাবার মতো ছিলেন। মা আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে দিতে চেয়েছিলেন। বড় ভাই তখনই সেটি করতে চাননি। এ নিয়ে কয়েক দিন সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল।
পরকীয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শোভন আমার বন্ধু। আমরা একই ক্লাসে পড়াশোনা করেছি। তাকে সন্দেহ করার মতো কোনো কারণ আমি দেখিনি। তাদের সম্পর্ক নিয়ে কখনো আমাদের চোখে কোনো আপত্তিকর বিষয় পড়েনি। শোভনও আমাদের বাড়িতে তেমন আসত না।
নিহতের মা লক্ষ্মী রানী দেউরী বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল আমার বড় ছেলে। সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে সে আত্মহত্যা করবে, তা কখনো ভাবিনি। পরকীয়ার বিষয়টি ছেলের মৃত্যুর পর শুনেছি। মৃত্যুর আগে এমন কোনো বিষয় আমাদের নজরে আসেনি।
তিনি আরও জানান, ছোট নাতনির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার ইচ্ছা তাদের নেই।
উল্লেখ্য, নিহত সজল কুমার দেউরী নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিঠানিয়া গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ড) স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ জুন সোমবার সকালে ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কলে স্ত্রী রঞ্জিতা রানী ও মা লক্ষ্মী রানী দেউরীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টির ঘটনাস্থল যেহেতু ঢাকায় নিয়মানুযায়ী সেখানে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নেছারাবাদ থানায় এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ অথবা মামলা দায়ের করিনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।