বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
পিরোজপুরের কাউখালীতে ভরা মৌসুমেও উপজেলার নদ—নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। কঁচা, সন্ধ্যা, গাবখান ও কালিগঙ্গা নদীতে দিন—রাত জাল ফেলেও অধিকাংশ জেলে খালি হাতে ফিরছেন। দু—একটি ইলিশ ধরা পড়লেও এর দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এতে একদিকে যেমন জেলেদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে ইলিশের দামও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও প্রতি কেজি ২ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাউখালী উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন ইলিশ শিকারি জেলে রয়েছেন। তাদের অধিকাংশেরই প্রধান জীবিকা নদীতে মাছ ধরা। কিন্তু চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
কঁচা নদীর জেলে কাউছার হোসেন ও সমীরণ বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জাল ফেলেও কোনো দিন একটাও ইলিশ পাই না। যা পাই, তা দিয়ে নৌকার তেলের খরচও ওঠে না। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে।
সন্ধ্যা নদীর জেলে মজিবর ও হিরন বলেন, ভরা মৌসুমে এমন অবস্থা আগে খুব কম দেখেছি। আমরা নদীতে সময় দিচ্ছি, কিন্তু মাছ নেই। বিকল্প কোনো কাজও নেই। অনেক পরিবার এখন অনাহারে—অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন অনেক সময় নদীর পানির প্রবাহ, লবণাক্ততার পরিবর্তন, জলবায়ু পরিস্থিতি এবং অতিরিক্ত আহরণের ওপর নির্ভর করে। এ বছর বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে ইলিশের গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে। নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ না আসার পেছনে এসব কারণ ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, চলতি সময়ে জেলেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ ধরা পড়ছে না, বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। নদীর পরিবেশগত পরিবর্তন, পানির প্রবাহ এবং মাছের চলাচলের ধরন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। জেলেদের দুর্ভোগের বিষয়টিও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিভিন্ন সময় সরকারিভাবে জেলেদের সহায়তা দেওয়া হয়।