বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ক্ষমতার দাপটে জমি দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ: ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, জেলা প্রশাসকের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি বৃদ্ধাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে টাকা দাবি : মামলা মেহেন্দিগঞ্জ পৌর সড়কের বেহাল দশা, কর্দমাক্ত পথচারীরা, জনদূর্ভোগ চরমে পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক ভাণ্ডারিয়ায় আইন—শৃঙ্খলা কমিটির সভা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক সংস্কারে জোর জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দীন হায়দার স্বপন একইদিনে পাগলা কুকুরের কামরে ১৪ জন আহত পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ, ষড়যন্ত্র দাবি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভ কামড় দেওয়া জীবিত সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে ববির দুই পক্ষের বৈঠক মঠবাড়িয়ায় বজ্রপাতে গরুসহ ৩ জনের মৃত্যু কাউখালীতে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠিত অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন ৫ অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ৮ কর্মকর্তা বদলি ১৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক বিতর্ক, আপত্তি পেরিয়ে পাস হলো সিকিউরিটিজ কমিশন বিল অর্থ আত্মসাতের পর আত্মগোপনে থাকা ম্যানেজারের মরদেহ উদ্ধার, সহকারী পলাতক কাউখালীতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা: শীর্ষ নেতারা পলাতক দেশজুরে বজ্রপাতে একদিনে নিহত ১৫, নিখোঁজ এক জেলে ‘গণভোটের রায়’ বাস্তবায়নে নতুন কর্মসূচি দিতে বৈঠকে বসেছে ১১ দল
নগরীর মতাসারে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখল

নগরীর মতাসারে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখল

বরিশাল নগরীর ৩ নং ওয়ার্ড, মতাসার এলাকায় কবিরাজ বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় আদালতের নির্দেশ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সালিশ-মীমাংসার শর্ত অমান্য করে বিবাদী পক্ষ জমিতে বৃক্ষ রোপণের অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে নগরীর ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার মো. কামাল হোসেন শরীফের কাছে ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট দুই পক্ষের স্ব স্ব পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। যার এক পক্ষ হলেন, এলাকার মৃত শফিজ উদ্দিন কবিরাজের ছেলে মো. নুরুন্নবী (খোকন) গং এবং অন্য পক্ষ হলেন, মৃত আব্দুল হক হাওলাদারের দুই ছেলে মো. নুর হোসেন ও মো. ইউনুস হাওলাদার সহ ছোবাহান হাওলাদারের ছেলে মো. ইউসুব হাওলাদার।

ঘটনার মূল বিষয় হলো : – জেল নং-৩৪, এসএ ১৯ নং খতিয়ানের এসএ ৪০৪/৩৯৬ নং দাগের ১৮ শতাংশ জমি, বিএস ২২৪ নং খতিয়ানে বিএস ৫৪৪/৫৬২ নং দাগে ১৮ শতাংশ জমির বৈধ মালিক হলেন- মৃত আ. সত্তারের স্ত্রী লাল বরু এর মৃত্যুর পর দলিলমূলে মালিকানা দাবিদার দুই পক্ষ। জীবিত থাকা অবস্থায় লাল বরু’র কাছ থেকে ১৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন শফিজ উদ্দিন কবিরাজ। একইভাবে অন্য পক্ষও দলিলমূলে জমির মালিকানা দাবি করে। সালিশ রোয়েদাদ নামায় উল্লেখ থাকে-

এমতাবস্থায় সালিসগণ লাল বরুকে সালিশ-মীমাংসায় সবার মধ্যে ডেকে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে- তিনি (লালবরু) বলেন, ১৩৮৬ সনের ২১শে ভাদ্র তারিখে নগদ টাকা গ্রহণ করে দলিল মূলে জমি সফিজ উদ্দিনকে বুঝিয়ে দেয়। পরবর্তীতে আমি নিরক্ষর মহিলা বিধায় ২য় পক্ষগণ বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন তারিখে দলিল সৃজন করে। কিন্তু আমি তাদের বরাবরে কোনো দলিল দেইনি এবং জমির দখল বুঝিয়ে দেইনি।

সালিসগণের সভাপতি মোঃ শাহজাহান সিরাজ ও কাউন্সিলারসহ ৯ জন সালিশদার সিদ্ধান্ত দেয়- সরেজমিনে বাড়ি ঘর, বাগান, পুকুর ১ম পক্ষের হওয়ায় এবং ২য় পক্ষের বিরোধীয় ভূমিতে দখল না থাকায় এবং লাল বরু নিরক্ষর মহিলা বিধায় তার বক্তব্যের উপর নির্ভর করে আমরা তফসিল ভূমিতে ১ম পক্ষ প্রাপ্ত হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম এবং লাল বরুর মৌখিক বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ২য় পক্ষ লাল বরুর অজ্ঞতার সুযোগে ২য় পক্ষগণ বিগত ১৩/০১/২০১০, ১/২/২০১০ এবং ১৭/৫/২০১০ তারিখে দলিল সৃজন করে হেবা ও সাবকবলা দলিল সৃজন করেছে।

পরে সফিজউদ্দিন পরলোক গমন করলে তার ওয়ারিশ জমিতে বসতঘর উত্তোলন ও আশেপাশে গাছ পালা রোপণ সহ পুকুর কেটে মাছ চাষ করেন। কিন্তু এক যুগ পর এই জমি জোরপূর্বক বিবাদীরা দখল করতে নুরুন্নবী গং, বরিশাল সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২৫/১০ নং দেং মোং দায়ের করেন। আদালতের বিচারক, জমিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে এবং অ্যাডভোকেট কমিশনারকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট বাদীর পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আরিফ হোসেন অপু আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

অপরদিকে, লাল বরু মৃত্যুর পর তার মেয়ে মোসাম্মৎ ফিরোজা বেগম গং বাদী হয়ে বরিশাল বিজ্ঞ জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ জেলা জজ আদালতে মো. নুরুন্নবী ওরফে খোকন কবিরাজ গংকে বিবাদী করে একটি মামলা ১৫/২৪ দেং মোং দায়ের করেন। আদালতে বিচারক ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই রায় প্রদান করেন। পরে ফিরোজা বেগম তার বিবাদী নুরুন্নবীর দায়েরকৃত মামলায় (২৫/১০) দেয়া দলিলের সই, স্বাক্ষর পরীক্ষার জন্য আদালতে ফরেনসিক ল্যাবরেটরীতে ফিঙ্গার প্রিন্টের আবেদন করেন। আদালতে আগামী ১১ মে আদালতে পরবর্তী ধার্য তারিখ থাকলেও, ফিরোজা বেগম গং মামলা নিষ্পত্তি না হবার আগেই জোরপূর্বক জমি দখল করে বৃক্ষ রোপণ শুরু করেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে নুরুন্নবী ওরফে খোকন বলেন, বিষয়টি এলাকার সবাই কম বেশি জানে। তারাই বলবে। আমি আদালতে উপর সম্মান রেখে জমিতে থাকা বসতঘর, পুকুর ও বাগানে যাই না। ঘর ভেঙে গেলেও মেরামত তো দূরের কথা রক্ষণাবেক্ষণ করছি না। কিন্তু বিবাদী গং আইন মানছে না। তবে তার প্রতিপক্ষ জমির বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি না বলে ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2019, All rights reserved.
Design by RaytaHost
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com