বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
বরিশাল সদর উপজেলা শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নে একটি ষাঁড় গরু জবাইকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর গুজব, তথ্যের ভিত্তিতে অপপ্রচারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামসুল কবির ফরহাদ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
চেয়ারম্যান বলেন, ষাঁড় জবাইতে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। এতে কোনো ব্যক্তি স্বার্থ বা অনিয়মের সুযোগ ছিল না। অথচ একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নামে গুজব ছড়িয়েছে। কারণ, ষাঁড় গরু জবাইয়ের দিন এলাকাতেই ছিলাম না। পরে এলাকায় এসে পুরো ঘটনা জানতে ও শুনতে পারি। গুজব তথ্য ছড়ানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রয়োজনে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।
মূল বিষয় হলো : – ২০১১ সালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি ষাঁড় গরু ক্রয় করে এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে ষাঁড়টি এলাকায় অবাধে বিচরণ করে। বয়স বেড়ে যাওয়ায় ষাঁড়টি দুর্বল হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ইউনিয়নের শত শত বাসিন্দা যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়ে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ষাঁড়টি জবাই করে ১৫৯ টি অংশ ভাগ করে জনগণ নিয়ে যায়। টাকা উঠে ৯৩ হাজার। নামের তালিকারও লিস্ট রয়েছে। পরদিন অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল এলাকার জনগণ বরিশাল চরমোনাই বাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি নতুন ষাঁড় গরু ক্রয় করে পূর্বের ন্যায় এলাকায় অবমুক্ত করে। ষাঁড়টি শনাক্তের জন্য শরীরে “S+9” চিহ্ন দেওয়া হয়। অবশিষ্ট অর্থ ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরো বিষয়টি বিকৃতভাবে উলটো উপস্থাপন করে জনমনে আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এলাকার শত শত জনগণ নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ষাঁড় গরুটি জবাই দিয়েছে। ঘটনার দিন আমি (চেয়ারম্যান) এলাকাতেই ছিলাম না। ষাঁড় জবাইয়ের ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার জনগণ আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং ইউপি সদস্য হিসেবে জনগণ ভােট দিয়ে বারবার নির্বাচিত করেছেন। এই জনপ্রিয়তাকে ক্ষুণ্ন করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড দুর্গাপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ যে ষাঁড়ের বিষয়ে বরিশাল কাউনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে- সেই ষাঁড়, শায়েস্তাবাদে জবাই করা ষাঁড় নয়। সরেজমিনে যে কেউ গেলে হাতেনাতে প্রমাণ মিলবে।
ষাঁড় জবাইয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অবগত রয়েছেন কিনা? জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে কর্মকর্তাকে জানানোর পূর্বেই পুরো ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিয়ে গেছে ষড়্যন্ত্রকারীরা। কয়েকদিন অনুপস্থিত থাকার পর এলাকায় এসে ইউপি কার্যালয় থেকে সব খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অবশ্যই বিষয়টি সম্পর্কে কর্মকর্তাকে অবগত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আসা ২ ব্যক্তি বলেন, ঘটনাটি যে পরিকল্পিত তার প্রমাণ দেখুন- অভিযোগের ১ নং সাক্ষী মো. আসাদুর রহমান (রাজিব) গরুর মাংসের ৩ ভাগ একা চেয়েছিল। তাকে ২ ভাগ দেওয়া হয়েছে। চাহিদামতো মাংস না পেয়ে ডিগবাজি দিয়েছে। মাংস ভাগ নেয়ার পরও সে সাক্ষী হয় কীভাবে।
Leave a Reply