বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
বিতর্ক ও আপত্তির মধ্যেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সংশোধন বিল—২০২৬’। জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ হওয়ার পর কণ্ঠভোটে বিলটি গৃহীত হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সংশোধন বিল—২০২৬’ উত্থাপন করেন। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া—২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমির ফারহানা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব করলে কণ্ঠ ভোটে তা নাচক হওয়ার পর ভোটে বিলটি গৃহীত হয়।
জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর এর ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। এ সময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শেয়ারবাজারের অতীতের অনিয়ম—দুর্নীতি তুলে ধরে বলেন, ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে ভয়াবহ ধসের ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত ১৫ বছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, এই অর্থ সাধারণ মানুষের—যারা তাদের সঞ্চয় বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু জড়িতদের অনেককে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। একইসঙ্গে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম—১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে এসময় বিলটির কিছু ধারার বিষয়ে আপত্তি তুলে বলেন, শাস্তির মেয়াদ ও বয়সসীমা সংশোধনের প্রস্তাব যথাযথ নয়। তিনি বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য জনগণের কাছে পাঠানোর প্রস্তাব দেন।
তবে স্পিকার জানান, এ বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব না থাকায় তা আমলে নেওয়া যাচ্ছে না।
পরে অর্থমন্ত্রী আমির খোসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতের অনিয়ম ও লুটপাটের অভিজ্ঞতা থেকেই কমিশনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শেয়ারহোল্ডারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই সংস্কার।
বয়সসীমা পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের সময় গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর, এখন তা ৭২ বছর। তাই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে বয়সসীমায় পরিবর্তন প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনও এ উদ্যোগের অংশ।
বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব দুটি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। পরে বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গৃহীত হয় এবং ধারাবিবরণী ও শিরোনাম অনুমোদনের পর চূড়ান্তভাবে কণ্ঠ ভোটে পাস হয়।
শেষে অর্থমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদিত হয়। ফলে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সংশোধন বিল—২০২৬’ সংসদে পাস হয়।
Leave a Reply