বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। নাশকতার মামলায় অধিকাংশ শীর্ষ নেতা অভিযুক্ত হওয়ায় এবং গ্রেফতার এড়াতে তারা এলাকা ছেড়ে পলাতক থাকায় বর্তমানে দলের কোনো প্রকাশ্য কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আব্দুস সহিদ বর্তমানে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে জামিনে রয়েছেন। এলাকায় অবস্থান করলেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। অন্যদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান তালুকদার মামলার আসামি হয়ে গ্রেপ্তারের আতঙ্কে আছে।
সহ—সভাপতিদের মধ্যে দুই একজন এলাকায় নিষ্ক্রিয়ভাবে থাকলেও বাকিরা গ্রেফতার আতঙ্কে তারা অনেকটা গা—ঢাকা দিয়ে আছেন। প্রভাবশালী সাংগঠনিক সম্পাদক কাউখালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিলটন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন উভয়েই নাশকতার মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছে।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কাউখালী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অলক কর্মকারকে বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেলেও দলীয় কোনো কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ নেই। তবে ছাত্রলীগের অবস্থা আরও নাজুক। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিশাদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক তৌকির আহমেদ সীমান্ত উভয়েই মামলার কারণে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ফলে রাজপথের প্রধান এই ছাত্র সংগঠনটি এখন নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়ে আছে। উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য সংগঠনের অধিকাংশ নেতারা আত্মগোপনের রয়েছে।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত। তারা বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করলেও তাদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, যখনই কোনো অভিযানের খবর পাওয়া যায়, তারা সাময়িকভাবে গা—ঢাকা দেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় প্রকাশ্যে আসেন।
শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি এবং অধিকাংশ নেতার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা থাকায় কাউখালীতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো বর্তমানে ভেঙে পড়েছে। সাধারণ কর্মীদের মাঝেও এ নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তৃণমূল কর্মী জানান, নিয়মিত যোগাযোগ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো কোনো সক্রিয় নেতা না থাকায় বর্তমানে দলের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কাউখালী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন সহ আইন—শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা রয়েছে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
Leave a Reply