বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় চাকরির ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মো. ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসা. শাহারা জাহান জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি—বহুরূপী এই ফয়সাল শওকত হোসেন হিরন মেয়র থাকাকালীন সময় তার লোক হয়ে কাজ করে। পরবর্তীতে সাদিক আব্দুল্লাহ’র আমলেও রূপ পাল্টিয়ে তার লোক হয়ে যায়। এভাবে করে তিনি ক্ষমতা কুক্তিগত করার জন্য বহুরূপে গুণান্বিত হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে। বর্তমানে বরিশাল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত থেকে প্রভাব বিস্তার করে ভুক্তভোগীদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, কাশিপুরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠী মৌজার বিভিন্ন খতিয়ান ও দাগভুক্ত প্রায় ২ একর ১৯ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন মৃত নুরুল আলম, খোরশেদ আলম ও নফেল আলম। পারিবারিকভাবে জমি বণ্টনের সময় ভুলবশত নুরুল আলমের নামে কিছু বেশি জমি রেকর্ড হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। পরবর্তীতে পারিবারিক সমঝোতার ভিত্তিতে জমির একটি অংশ বোন মমতাজ বেগমকে দান করা হয়, যেখানে তিনি বসবাস শুরু করেন।
মমতাজ বেগমের মৃত্যুর পর ওই জমি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন হয়। বর্তমানে সেখানে মাহমুদা বেগম তার পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন। তবে ২০১৫ সালে মাহমুদা বেগমের ছেলে ফয়সাল আহমেদ তার খালাদের কাছ থেকে কিছু জমি হেবা দলিলের মাধ্যমে গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত জমির দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
শাহারা জাহান অভিযোগ করেন, জমির রেকর্ড সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও ফয়সাল আহমেদ তার চাকরির প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলকে ব্যবহার করছেন। তিনি বরিশাল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত থেকে প্রভাব বিস্তার করে তার ও তার দুই বোনের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে গত ১১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করা হলেও তা তদন্ত হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে পুনরায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফয়সাল আহমেদ জানান, আমি তাদেরকে কোন হয়রানি করছি না। আদালতে ওই জমি নিয়ে মামলা চলছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে আমি তাই মেনে নেব।
ভুক্তভোগী পরিবার জানান, জমি নিয়ে মামলা হওয়ার আগেই তারা ওই জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের সময় কোন মামলা ছিল না বলেও তাদের দাবি। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
Leave a Reply