
ফরিদপুরে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই বোনকে ভারতে পাচার ও অসামাজিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগে মো. শহীদ শেখ নামের ব্যক্তিকে মানব পাচার আইনের দুই ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মোট ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. শহীদ শেখ (৫০) ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গজারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৯ জুলাই ফরিদপুরের একটি জুট মিলে কর্মরত ২০ ও ১৮ বছর বয়সী দুই বোনকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সহকর্মী শহীদ শেখ ভারতের বোম্বে শহরে পাচার করেন। সেখানে তাদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় তরুণীদের বাবা ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সালথা থানায় শহীদ শেখ ও তার স্ত্রীকে আসামি করে মানব পাচার আইনে মামলা করেন। একই বছরের ৩১ অক্টোবর সালথা থানার উপ—পরিদর্শক ওমর আলী তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরে শহীদ শেখের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আদালত মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ধারায় তাকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ ধারায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, ‘শহীদ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন। তবে অপর আসামি তার স্ত্রীর অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।’