
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার গৌরীপুর ইউনিয়নের মোসলেম মাটিভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ দেখতে পান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান।
এ সময় প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত না পেয়ে এবং সবগুলো শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পাওয়া যায়। চরম অনিয়মে অসন্তোষজনক প্রকাশ করেন ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত অফিস ও ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ ও শিক্ষার্থী শূন্য থাকার বিষয়টি নজরে আসলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ও অন্যান্য নথিপত্র তলব করেন। বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের কাছে বেলা ১২টায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ থাকার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আগামী শুক্রবার শিক্ষা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে, তাই শিক্ষার্থীরা আগেই বাড়ি চলে গেছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষা সফরে যাওয়ার এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল না কোনো উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিংবা শিক্ষা অফিসারের পূর্বানুমতি।
তদন্তকালে আরও দেখা যায়, শিক্ষক—শিক্ষিকাদের ছুটির কোনো আবেদনপত্র সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে, বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক শিক্ষিকা মমতাজ বেগম দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিবর্তে ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে ক্লাস করিয়ে আসছেন।
ইতিপূর্বে এ নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি মাঝে মাঝে ক্লাসে উপস্থিত হলেও বর্তমানে অনিয়মিত রয়েছেন এবং অধিকাংশ সময়ই বিনা অনুমতিতে বা যথাযথ ছুটির আবেদন ছাড়াই ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন। এছাড়া বিদ্যালয়টিতে নিয়মানুযায়ী ক্যাশ মেমো ও আর্থিক হিসাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাসিবুল হাসান জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিস চলাকালীন সময়ে পাঠদান বন্ধ রেখে বিদ্যালয় তালাবদ্ধ রাখা এবং শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিত রাখার বিষয়টি অত্যন্ত দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। এছাড়া যথাযথ অনুমতি ও প্রটোকল ছাড়া শিক্ষা সফর আয়োজনের নামে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে।
বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।