
বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের মান্দ্রা বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হিজলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ০৩ নং যুগ্ম আহবায়ক নোমানুর রহমান নোমান কে ০২ নং আসামি ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী ইসমাঈল মোল্লা কে ১নং আসামি করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি,ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, ত্যাগী, সাহসী ও একনিষ্ঠ কর্মীদের কে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতেই পরিকল্পিতভাবে এই হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের মান্দ্রা বাজারে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ফরিদ বেপারী ও তানভীর তালুকদার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ফরিদ বেপারী গ্রুপের পক্ষ থেকে হিজলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় ইসমাইল মোল্লাকে ১ নং ও নোমানুর রহমানকে ০২ নং আসামি করা হয়।
তবে স্থানীয় ও উপজেলার নেতাকর্মীদের দাবি, সংঘর্ষের সময় নোমানুর রহমান নোমান ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
নোমানুর রহমান নোমান বলেন , ঘটনার ৩ দিন আগে ২৪ শে জুলাই শুক্রবার ১২ টা সময় হিজলা গৌরবদী থেকে এসে সদর উপজেলায় আমার নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলাম ।ঘটনার দিন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১:৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে ছিলাম। বিকেল আনুমানিক ৩:৪৫ ঘটিকার সময় ছাত্রনেতা ইসমাইল মোল্লা কে সাথে নিয়ে উপজেলা পিআইও ইন্জিনিয়ার রুমে প্রবেশ করি। ইসমাইল মোল্লা’র হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হিজলা থানায় ৩:৫০ ঘটিকা হইতে ৪:৪৫ ঘটিকা পর্যন্ত ছিলাম। বিষয়টি থানার সিসি টিভি ফুটেজ ও জিডির সময় যাচাই করলেই স্পষ্ট হবে বলে তার দাবি। এছাড়া সংঘর্ষের আগে স্থানীয় একটি রাস্তা সংস্কারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিকেল আনুমানিক ৫ :৩০ টা হইতে ৬ টা পর্যন্ত তার দপ্তরে অবস্থান করছিলাম ।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন আপনারা যদি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন তাহলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে দাবি এই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার।
অন্যদিকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন, সংঘর্ষে জড়িত তানভীর তালুকদার গ্রুপের সঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মোঃ নোমানুর রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শুধুমাত্র সাংগঠনিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক নেতাকর্মীদের ভাষ্য,তারা দুজন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নোমানুর রহমান নোমান ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী ইসমাঈল দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করেছেন।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় উত্তপ্ত ঢাকার রাজপথে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও কারাবরণের মতো ত্যাগ স্বীকার করা কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে থানা এবং ইউনো অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ও জিডির তথ্য যাচাই করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নোমান ও ইসমাইল মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন।