শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
বরিশালের মুলাদীতে হামলায় গুরুত্বর আহত হওয়ার ২৬ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মিলন হাজী (২৩) নামে এক যুবক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাতটার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত মিলন হাজী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বাণীমর্দন গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম হাজীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুত্বর আহত হন মিলন। পরে তাঁকে প্রথমে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, এরপর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল হয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় মিলনের ভাই নাসির হাওলাদার বাদী হয়ে আবু তাহের (২৫), রোমান (২৭), রাজু (২৫), রনি (২৫), রাব্বীসহ (২৩) নয়জনের নামোল্লেখ করে আরও ১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মুলাদী থানায় পূর্বে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরের দিন বিকেলে মিলনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী চরকালেখান ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরধরে পরেরদিন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়।
অপরদিকে মিলনের মৃত্যুর আগেই ৩ জুন এলাকায় তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুটসহ কয়েকটি গবাদিপশু নিয়ে গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধার করা গবাদিপশু প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে মিলনের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণীমর্দন জয়বাংলা বাজার ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন মিলন হাজী বৃহস্পতিবার সকালে মারা গেছেন। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩০২ ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।