বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
বরগুনার বেতাগী উপজেলার একটি নূরানী মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মুহাসিন হাসান ওরফে আব্দুর রহিমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বেতাগী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন অভিযুক্ত। শুনানি শেষে বিচারক মো. আনোয়ার হোসেন মামলার নথিপত্র, এজাহার ও ভিকটিমের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল বেতাগী উপজেলার ৪ নম্বর মোকামিয়া ইউনিয়নের একটি নূরানী মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত এক শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিকটিমের জবানবন্দিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং মাদ্রাসার পরিচালক ও সেক্রেটারির বিরুদ্ধে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং শিশুটির পরিবারকে বিষয়টি প্রকাশ না করতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক অতীতেও অন্য শিশুদের সাথে একই ধরনের অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন নামে শিক্ষকতা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, তার মক্কেলকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং তিনি নির্দোষ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার নথি ও ভিকটিমের জবানবন্দির ভিত্তিতে জামিনের বিরোধিতা করে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য—প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।