শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
‘বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে’—এই প্রবাদটি আজ যেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাট থানাধীন আদর্শ নগর ইউনিয়নের হতভাগ্য মরিয়ম ও তার পরিবারের জন্য নির্মম সত্যে পরিণত হয়েছে। সপ্তম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী মরিয়ম হত্যাকাণ্ডের একটি বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তের জট খোলেনি। দিনের পর দিন গড়ালেও মামলার কোনো কুল—কিনারা না হওয়ায় ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এখন সুদূরপরাহত।
একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বছর পার হওয়া সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকা আইন—শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঘটনার পর পরই যে তোড়জোড় দেখা গিয়েছিল, বর্তমানে তা যেন রহস্যজনকভাবে স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এই দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের আশ্রয়—প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও জনমনে সন্দেহ দানা বাঁধছে।
মরিয়মের বাবা—মায়ের দিন কাটে একরাশ অনিশ্চয়তা আর বুকফাটা আর্তনাদে। তাদের প্রশ্ন, “সন্তান হারানোর শোক সহ্য করা কঠিন, কিন্তু তার চেয়েও কঠিন হলো হত্যাকারীদের বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানো দেখা।” পরিবারটি এখন স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে উচ্চ মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার অধরাই থেকে যাচ্ছে।
এই এলাকার বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের মামলার বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের আরও দুঃসাহসী করে তুলছে। মরিয়ম হত্যার এই ভয়াবহ রেশ এখনো এলাকাবাসীকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তারা দাবি তুলেছেন, মামলার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের এহেন নিস্তেজ ভূমিকা ও দায়িত্বহীনতা মরিয়মের পরিবারকে চরম হতাশায় ফেলেছে। মামলার বর্তমান অবস্থা এবং দীর্ঘায়িত হওয়ার যৌক্তিক কারণ জানতে চাওয়া হলেও দায়সারা উত্তর ছাড়া মিলছে না কোনো কার্যকর আপডেট।
মরিয়ম কি তবে কেবল একটি সংখ্যার হিসেবে পরিণত হবে? নাকি রাষ্ট্র তার দায়বদ্ধতা পালন করে এই মেধাবী ছাত্রীর হত্যাকারীদের খুঁজে বের করবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়। এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে তদন্তের মোড় ঘোরানোর দাবি জানানো হয়েছে।