মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
ময়মনসিংহ নগরীতে রাজিব আহমেদ রুবেল ওরফে কাইল্যা রুবেল (৪০) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাড়িওয়ালার চার ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, মাকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে চার ভাই মিলে রুবেলকে হত্যা করেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
গ্রেফতাররা হলেন— নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা বাড়ির মালিক পারুল আক্তারের ছেলে। যে বাড়িতে রুবেল ভাড়া থাকতেন, সেখানেই তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
পিবিআই জানায়, পূর্ব বিরোধের জেরে রুবেল বাসা ছাড়ার বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি বাড়িওয়ালা পারুল আক্তারের বাসায় গিয়ে তাকে গালাগালি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ওই সময় পারুলের ছেলে জনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। পরে তিনি বিষয়টি অন্য ভাইদের জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সকাল ১০টার দিকে রুবেলের কক্ষে গিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এলাকায় রুবেল ‘কাইল্যা রুবেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক—সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে তিনি পারুল আক্তারের বাসা ভাড়া নেন। এরপর বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে তাকে বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, গ্রেফতার চারজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে শ্লীলতাহানির বাইরে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা—নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, রোববার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসার নিজ কক্ষে রাজিব আহমেদ রুবেলকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তিনি ওই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।
এছাড়া পিবিআইয়ের এই বক্তব্য তদন্তের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।