
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানকে ঘিরে সংঘটিত সহিংসতায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার অন্তত পাঁচজন বাসিন্দা নিহত হন। তারা কেউ নিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হননি; বরং ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিংবা অবস্থানকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতদের মধ্যে ২০ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সদ্য মা হওয়া সুমাইয়া আক্তার। তার বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের মাঝকাজি এলাকায়।
একই আন্দোলনে নিহত হন উপজেলার পানবাড়িয়া গ্রামের শাওন (১৭)। তিনি ঢাকার রামপুরার একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। ৫ আগস্টের আগে এক শুক্রবার জুমার নামাজে যাওয়ার পথে বাম পাজরে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান।
রাজধানীর উত্তরায় জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন আরাফাত হোসাইন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)—এ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আরাফাত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের ছেলে। তার বাবা পেশায় রিকশাচালক। তিনি উত্তরার জামিয়া রাওজাতুল উলূম মাদরাসার ইবতেদায়ি আউয়াল শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এছাড়া উপজেলার বাজিতখা এলাকার আসিফ দেওয়ান ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় বা আন্দোলন—পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
অন্যদিকে, মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাট থানার ভাসানচর ইউনিয়নের হেসামদ্দি গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসাইন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকার মেরুল বাড্ডা এলাকায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পাশে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই পাঁচজনের মৃত্যু মেহেন্দিগঞ্জবাসীর জন্য এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রয়েছে। তাদের পরিবার এখনো প্রিয়জন হারানোর শোক বহন করছে। একই সঙ্গে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।